Collected from: tsports

বিশ্ব ফুটবলে ‘গ্যালোটিকোস’ গড়ে তোলার নেশা রিয়াল মাদ্রিদের বহু পুরনো। বিশ্বরেকর্ড গড়া ট্রান্সফার ফি খরচ করে ফরাসি তারকা উইঙ্গার মাইকেল ওলিসেকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে উড়িয়ে নেওয়ার জোর গুঞ্জন

তবে ২২২ মিলিয়ন ইউরোর বেশি বা ২২২ মিলিয়ন ইউরো (প্রায় ২০০ মিলিয়ন ইউরো বা তার বেশি) প্রস্তাব পেলেও বায়ার্ন মিউনিখ কি তাদের এই সেরা তারকাকে বিক্রি করতে রাজি হবে? বায়ার্নের সাবেক মিডফিল্ডার ও বুন্দেসলিগাজয়ী তারকা ডিটমার হামান জানান, বায়ার্ন মিউনিখ কোনো বিক্রয়কেন্দ্রিক ক্লাব নয়, আর ওলিসের দলবদলের পুরো চাবিকাঠি এখন খেলোয়াড়ের নিজের হাতেই।

ফ্রান্স ও বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ২০২৫-২৬ মৌসুমে ৬৬টি গোলে অবদান রাখেন ২৪ বছর বয়সী ওলিসে। অলিম্পিক ও ২০২৬ বিশ্বকাপে কিলিয়ান এমবাপের পাশাপাশি নিজেকে চিনিয়েছেন আলাদাভাবে। এমন একজন তারকাকে দলে ভেড়াতে মোটা অঙ্কের বাজেট নিয়ে নামার পরিকল্পনা ছিল রিয়ালের। তবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে নতুন বিশাল চুক্তি স্বাক্ষর এবং ১৪০ মিলিয়ন ইউরোর বিনিময়ে আইভোরিয়ান উইঙ্গার ইয়ান দিওমান্দেকে সই করানোর পর রিয়ালের সেই তাড়াহুড়ো কিছুটা কমেছে। কিন্তু সান্তিয়াগো বার্নাব্যুয়ের আকর্ষণ ওলিসের মন গলিয়েছে বলে খবর প্রকাশ করেছে বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম।

রিয়াল মাদ্রিদের এই নজর কি আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় দুশ্চিন্তার কারণ হবে? গোল ডটকমকে হামান বলেন, ‘তার চুক্তির আর দুই বা তিন বছর বাকি আছে। উলি হোয়েনেস স্পষ্টভাবে বলেছেন, কোনোভাবেই এটি সম্ভব নয়। কারণ বায়ার্ন সব সময়ই জোর দিয়ে বলে যে তারা খেলোয়াড় বিক্রি করা ক্লাব নয়। তারা কেবল তখনই খেলোয়াড় বিক্রি করে, যখন তারা নিজেরা কাউকে ছাড়তে চায়।’

Soccer

ওলিসের গুরুত্ব ও দলবদলের জটিল সমীকরণ বুঝিয়ে দিয়ে জার্মান এই সাবেক তারকা আরও যোগ করেন, ‘সে ছিল দলের সেরা ও নজরকাড়া খেলোয়াড়। তাকে ছাড়ার কোনো ইচ্ছে বা আগ্রহ বায়ার্নের একেবারেই নেই। তবে খেলোয়াড় নিজে যদি বায়ার্ন মিউনিখের কাছে গিয়ে বলে, আমি চলে যেতে চাই, তখন হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে, চিত্রপট বদলে যেতে পারে। কিন্তু লাইপজিগ থেকে দিওমান্দে রিয়ালের পথে রয়েছে। তাই ভিনিসিয়ুস জুনিয়র যদি না ছাড়েন, তবে অলিসেও সেখানে যাচ্ছেন বলে আমার মনে হয় না।’

প্রাক-মৌসুম এশিয়া সফর শেষে বায়ার্ন মিউনিখ ফিরলে ওলিসের গতিপথ স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে মনে করেন হামান। তাঁর ভাষায়, ‘আমার মনে হয় এশিয়া সফর থেকে বায়ার্ন মিউনিখ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ফিরে আসবে এবং ওলিসেও দুই-তিন দিনের মধ্যে অনুশীলনে যোগ দেবে। একবার সে এখানে অনুশীলন শুরু করলে, আমার মনে হয় না এই দলবদল আর হচ্ছে। আমি প্রায় নিশ্চিত অলিসে আগামী মৌসুমেও বায়ার্ন মিউনিখেরই খেলোয়াড় থাকছেন।’

 

 

বায়ার্ন যে অর্থের লোভে বড় তারকাদের বিক্রি করে না, সেটির ঐতিহাসিক প্রমাণ দিতে গিয়ে ১৫ বছর আগের এক স্মৃতি টেনে আনেন হামান। তিনি বলেন, ‘ফ্রাঙ্ক রিবেরির জন্য তারা প্রায় ১০০ মিলিয়ন ইউরোর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল—আজ থেকে প্রায় ১০ বা ১৫ বছর আগের কথা এটি। তারা সেই গল্পটি বলে, আমার ঠিক মনে নেই কোন ক্লাব ছিল, সম্ভবত ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড হতে পারে। রিবেরি যখন বোর্ডকে বিষয়টি ভেবে দেখতে বলেছিল, তারা সরাসরি বলেছিল, না, এটি ঘটা সম্ভব নয়।’

তবে রিয়াল যদি নেইমারের সর্বকালের সর্বোচ্চ ট্রান্সফার ফির রেকর্ড ভেঙে ২০০ মিলিয়ন ইউরোর বিশাল প্রস্তাব দেয়, তাহলেও কি বায়ার্ন নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে পারবে? এই প্রসঙ্গে হামান বলেন, ‘তাই যদি ২০০ মিলিয়নের একটি প্রস্তাব আসে এবং খেলোয়াড় নিজে যেতে চায়, কেবল তখনই একটি নতুন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। আমি মনে করি পুরো বিষয়টি খেলোয়াড়টির ওপরই নির্ভর করছে। খেলোয়াড় যদি বোর্ডের কাছে গিয়ে বলে, আমি নিজেকে অন্য কোথাও দেখতে চাই, তাহলেই কেবল পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে।’

ওলিসের প্রতি রিয়ালের যোগাযোগের বিষয়টি উল্লেখ করে হামান শেষ বাক্যে জোর দিয়ে বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদ স্পষ্টতই ওলিসের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে এবং কোনো সুযোগ থাকলে মিউনিখ থেকে তাকে বের করে আনতে কত খরচ হবে, তা নিশ্চয়ই রিয়াল জানে। সুতরাং আমরা এখানে ১৮০ থেকে ২০০ মিলিয়ন ইউরোর কথা বলছি। আমার ধারণা, খেলোয়াড় নিজে যদি চাপ দিয়ে বলে, আমি যেতে চাই, তবেই কেবল এটি প্রাসঙ্গিক হতে পারে। কারণ তা না হলে বায়ার্ন কাউকে পাত্তা দেবে না, এমনকি আলোচনাতেও বসবে না।’ ২০২৯ সাল পর্যন্ত বায়ার্নের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে মাইকেল ওলিসের।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version