Collected from: tsports.com
ফুটবল ইতিহাসে ব্রাজিলের ৭-১ ব্যবধানের কথা শুনলেই সবার আগে মনে পড়ে ২০১৪ ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে সেই বেদনাদায়ক ও ট্রাজিক পরাজয়ের স্মৃতি। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে সেই চিরচেনা সংখ্যাটি সেলেসাওদের জন্য বয়ে আনল ভিন্ন এক স্বস্তি ও গৌরব।
এবার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে ব্রাজিল গোল দিয়েছে মোট ৭টি, আর বিপরীতে হজম করেছে ১টি। এই দারুণ সমীকরণে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
বৃহস্পতিবার ভোরে ফ্লোরিডার মায়ামি গার্ডেন্সে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করার পর, দ্বিতীয় ম্যাচে হাইতিকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল তারা।
এর আগে সবশেষ ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোলের দেখা পেয়েছিল সেলেসাওরা। সেবার সার্বিয়া ও কোস্টারিকাকে ২-০ গোলে হারানোর পর সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল তারা।
ব্রাজিলের গ্রুপ পর্বে ৭ গোল দিয়ে ১টি হজম করার ঘটনা ২০০৬ সালে। সেবার ক্রোয়েশিয়াকে ১-০, অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ এবং জাপানকে ৪-১ ব্যবধানে হারিয়ে ৩ ম্যাচের তিনটিতেই জিতেছিল তারা।
স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বৃহস্পতিবার গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে জোড়া গোল করে জয়ের নায়ক রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। দলের পক্ষে অন্য গোলটি করেন মাথেউস কুনিয়া।
এর আগে মরক্কো ও হাইতির বিপক্ষেও জালের দেখা পেয়েছিলেন ভিনিসিয়ুস। আর তাতেই বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের ৩ ম্যাচের সবকটিতেই গোল করার এক অনন্য ও ঐতিহাসিক কীর্তি স্পর্শ করলেন এই উইঙ্গার।
ব্রাজিলের ইতিহাসে এর আগে মাত্র চারজন খেলোয়াড় বিশ্বকাপের প্রথম পর্বের তিনটি ম্যাচেই গোল করতে পেরেছেন (১৯৭০ সালে জাইরজিনহো, ১৯৯৪ সালে রোমারিও, ২০০২ সালে রোনালদো ও রিভালদো) এবং প্রতিবারই ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। ২০২৬ সালের বিশ্বকাপে এসে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আবার এই কীর্তি স্পর্শ করলেন।
স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ব্রাজিল। সমান ৭ পয়েন্ট পেলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে রানার্সআপ হয়ে পরের পর্বে মরক্কো। ৩ পয়েন্ট পাওয়া স্কটল্যান্ডকে এখন তাকিয়ে থাকতে হবে অন্য গ্রুপের তৃতীয় দলগুলোর দিকে। আর ৩ ম্যাচের তিনটিতেই হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল হাইতি।


