Collected from: tsports.com

প্লেয়িং ক্যারিয়ারের প্রায় চারগুন বেশি ম্যাচে কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন কার্লো আনচেলোত্তি। ১৪ বছরের প্লেয়িং ক্যারিয়ারে সিরি ‘এ’ পার্মা, রোমা, এসি মিলানের হয়ে খেলেছেন ৩৩৮ ম্যাচ। সেখানে ৩১ বছরের কোচিং ক্যারিয়ার তাঁর ১৪১৬ ম্যাচের! জুভেন্টাস, এসি মিলান, চেলসি, পিএসজি, রিয়েল মাদ্রিদ, বায়ার্ন মিউনিখের মতো ইউরোপ সেরা দলে গুরু দায়িত্ব নিয়েছেন। কোচিং ক্যারিয়ারে সাফল্যও তাঁর বলার মতো। ২০২৪ সালে পেয়েছেন দ্য বেস্ট ফিফা কোচের পুরস্কার।

এমন এক ইতালিয়ানকে ব্রাজিল ফুটবল দলের কোচের দায়িত্বে বেছে নেয়ায় পড়ে গিয়েছিল হৈ চৈ।

১৩ মাস আগে  ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন আনচেলোত্তিকে ব্রাজিল জাতীয় দলের নতুন ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দেয়। বছরে বেতন ১০ মিলিয়ন ইউরো। বিশ্বকাপ জিতলে বোনাস ৫ মিলিয়ন! জাতীয় ফুটবল দলের হেড কোচ হিসেবে দায়িত্ব এটাই প্রথম। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে রানার্স আপ ইতালির কোচ আরিগো সাচ্চির সহকারী ৬৭ বছর বয়সে ব্রাজিল ফুটবল দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়ে নিজেকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছিলেন। অথচ, কোচিংয়ের প্রথম বছরে তার দর্শনে মুগ্ধ ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন। বছর পেরুনোর পর পরই আনচেলোত্তির চুক্তির মেয়াদ ২০৩০ ফিফা বিশ্বকাপ পর্যন্ত  নবায়ন করা হয়েছে।

বিশ্বকাপের মূল পর্বে মরক্কোর সঙ্গে প্রথম ম্যাচ ১-১ গোলে ব্রাজিল ড্র করায় আনচেলোত্তিকে ব্রাজিল ভক্তরা দাঁড় করিয়েছিলেন আসামীর কাঠগড়ায়। অথচ, হাইতি এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ৩-০ গোলে ব্রাজিলের জয়ের পর এই ইতালিয়ানকে নিয়ে প্রশংসায় পঞ্চমুখ ব্রাজিলের গণমাধ্যম।

ক্লাব কোচিং ক্যারিয়ারে ৪-৪-২ ফরমেশনে পেয়েছেন আনচেলোত্তি সাফল্য। তবে ব্রাজিল ফুটবল দলের দায়িত্ব নিয়ে সঠিক ফরমেশনটা খুঁজে নিতে লেগেছে তাঁর সময়। এই বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে ব্রাজিলকে মাঠে নামিয়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। ওই ম্যাচে প্রধান ফরোয়ার্ড ইগোর থিয়াগো তাঁকে হতাশ করেছেন। এই ফরোয়ার্ড মাঠে ছিলেন ৬২ মিনিট। এই ১ ঘন্টা ২ মিনিটে মাত্র ৬টি পাস দিতে পেরেছেন, টার্গেটে শট নিয়েছেন ১টি। তাঁর পেছনের ফরোয়ার্ড লুকাস পাতেকার মাঠে স্থায়ীত্ব ছিল ৬১ মিনিট। ৩৯টি পাস দিলেও টার্গেটে শট নিয়েছেন মাত্র ১টি। রাপিনহাও ওই ম্যাচে কোচের প্রশংসা পাননি। ওই ম্যাচের লুকাস পাতেকার বদলে ৩৯ মিনিট খেলার সুযোগ পেয়ে কুনহা কোচের নজর কেড়েছেন। হাইতির বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে ফরমেশন বদলে ৪-৩-৩ কে বেছে নিয়ে সেই ফরমেশনে ভিনিসুস জুনিয়রের সঙ্গে দারুণ পার্টনারশিপ গড়ে তুলেছেন কুনহা। নিজে ২টি গোল করিয়েছেন, দিয়েছেন ২৯টি পাস।

রাপিনহার ইনজুরিতে প্রথম একাদশে রায়ানকে রায়ানকে বেছে নেয়াটা ছিল কোচের যথার্থ সিদ্ধান্ত। ৮২ মিনিট ছিলেন মাঠে। এই সময়ে ২৫টি পাস দিয়েছেন, প্রতিটি পাসই নিখুঁত। গোলপোষ্ট লক্ষ্য করে টার্গেটে শট মেরেছেন ১টি। ট্যাকেল করেছেন ২টি। তাঁর চেয়েও বড় কথা, ব্রাজিলকে ৪টি গোলের উৎস তৈরি করে দিয়েছেন ব্রাজিলের জার্সিতে তৃতীয়বারের মতো মাঠে নামা এই ফরোয়ার্ড।

গ্রুপ রাউন্ডে স্কটল্যান্ডকে গোলশূন্য রেখে ব্রাজিল বিশ্বকাপে একটি রেকর্ড করেছে। হেক্সার মিশনে খেলতে আসা ব্রাজিল বিশ্বকাপে ৫০টি ক্লিন শিট রাখা প্রথম দল হয়ে গেছে। যে রেকর্ডে ব্রাজিলের পেছনে জার্মানি (৪১), ইংল্যান্ড (৩৭) এবং ইতালি (৩২)। ব্রাজিলের যে রেকর্ডে শেষ দুটি ম্যাচের কোচ আনচেলোত্তি।

হিসেব করে শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতে মরক্কোকে টপকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চ্যালেঞ্জে জিতেছেন ব্রাজিল কোচ।

তবে ‘সি’ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে রাউন্ড অব ৩২ এ উঠেও শিষ্যদের খেলায় পুরোপুরি ঢেকুর তুলতে পারছেন না ব্রাজিল কোচ-‘ প্রথম ম্যাচের পর থেকে দলের উন্নতি হয়েছে। আমরা নকআউট পর্বে পৌঁছে যাওয়ায় এখন দলটাকে সুসংহত রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এখন দল হিসেবে খেলছি, এটাই চেয়েছিলাম। তবে নিখুঁত নই, আমাদের কিছু বিষয়ে উন্নতি করতে হবে – বল দখলে থাকলে আমরা আরও দ্রুত খেলতে পারতাম।’

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version