Collected from: somoynews.tv
রাজধানীতে খুপরি ঘরে অকটেন বিক্রি হচ্ছে। ভাঙারির দোকানেও মিলছে ডিজেল। রাজধানীর পার্শ্ববর্তী কেরানীগঞ্জেও বিভিন্ন জায়গায় জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কালোবাজারি প্রমাণ করছে, জ্বালানি তেলের ওপর সরকারের যথাযথ নিয়ন্ত্রণ নেই।
দেশের আইনে তেল মজুত করার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান থাকলেও কালোবাজারি থামছে না। দেশে তেল নিয়ে চলছে তেলেসমাতি, খোলাবাজারে ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে লুকোচুরি দেখা যাচ্ছে। খুপরি দোকানগুলোতে অকটেন পাওয়া যাচ্ছে, আর ভাঙারির দোকানে মিলছে ডিজেল।
সরেজমিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, বসিলা এলাকায় প্রকাশ্যে অকটেন বিক্রি করছেন এক ব্যক্তি। তবে সময় সংবাদের ক্যামেরা দেখামাত্রই তিনি দৌড়ে চলে যান। ১০ মিনিট পর আবারও দেখা মেলে, এবার মোটরসাইকেলে চড়ে দ্রুত আড়ালে সটকে পড়েন।
বসিলা ব্রিজে ওঠার আগে আরেকটি খুপরি দোকানে অকটেন বিক্রি হয় এমন তথ্যের ভিত্তিতে স্পটে গিয়ে সত্যতাও পাওয়া যায়। মুখে মাস্ক পরা এক ব্যক্তিকে প্রায় আধা ঘণ্টা অনুসরণ করে সময় সংবাদ। দোকানের ভেতরে দেখা যায় একজন বড় গ্যালন থেকে পানির বোতলে অকটেন ভরার কাজে ব্যস্ত। এরই মধ্যে মোটরসাইকেল নিয়ে হাজির ক্রেতা।
কোথা থেকে এত অকটেন পেলেন জানতে চাইলে দোকানি জানান, নারায়ণগঞ্জের একটি ডিপো থেকে প্রতিদিন তেল আনেন। তিনি বলেন, ‘আমরা ওনাদের থেকে আনি। এটা বিক্রি করে সংসার চলে। আমার কাছে টাকা ছিল না, তাই কিছু তেল বিক্রি করতে এনেছি।’
বসিলা ব্রিজ পার হয়ে ঘাটারচরে দেখা যায়, এক দোকানি কাভার্ড ভ্যানে ডিজেল সরবরাহ করছেন। তিনি বলেন, এলাকাভিত্তিক কিছু দেয়ার জন্য এনেছি। প্রকাশ্যে আমরা বিক্রি করি না। যারা আনছে, তারা অন্য জায়গা থেকে আনে, থার্ড পার্টি। আমি ওদের ভালোভাবে চিনি না।
কেরানীগঞ্জের জাউলাবাড়ি, বামনশুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ডিজেল প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে। মোহাম্মদপুর-মিরপুর বেড়িবাঁধে ভাঙারির দোকানেও মিলছে ডিজেল। কিছু দোকানি সহজ স্বীকারোক্তি দিয়েছেন; যে তারা তেল মজুত করছে। এক দোকানি জানান, ডিজেল আছে। দাম যার থেকে যা নেয়া যায়। যাদের খুব বেশি প্রয়োজন; তারাই কিনছেন।
কালোবাজারি ঠেকাতে সরকারের কঠোর হওয়ার বিকল্প নেই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এম. শামসুল আলম বলেন, জাহাজ থেকে তেল খালাস হওয়া শুরু করে ভোক্তা পর্যন্ত যে সাপ্লাই চেইন, সেখানে যদি সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা শতভাগ নিশ্চিত না করা যায়, তাহলে কালোবাজারি ঠেকানো সম্ভব হবে না। এখনও সেই নিয়ন্ত্রণ সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। এরই প্রমাণ, সব জায়গায় তেলের কালোবাজার এরই মধ্যেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।

