Collected from: somoynews.tv
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও স্বস্তি ফিরছে না লেবাননে। গোলার শব্দ, ড্রোন হামলা আর অনিশ্চয়তায় দিন পার করছেন দক্ষিণ লেবাননের গৃহহারা শত শত পরিবার। বৈরুতের অস্থায়ী শিবিরের বাসিন্দারা বলছেন, ইসরাইল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও বাস্তবে শান্তির কোনো নিশ্চয়তা নেই।
যুদ্ধবিরতি যেন থমকে আছে সাদা কাগজ আর আলোচনার টেবিলে। লেবানন ও ইসরাইল সীমান্তে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও কমছে না উদ্বেগ।
বৈরুতের অস্থায়ী ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের মধ্যে বাড়ছে হতাশা আর ক্ষোভ। তাদের অভিযোগ, যুদ্ধবিরতি আসলে কোনো শান্তিচুক্তি নয়, বরং সাজানো নাটক। বাস্তবে পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ।
তারা বলছেন,
এটি কোনো যুদ্ধবিরতি নয়। এটি একটি ষড়যন্ত্র, কিংবা কোনো পরিকল্পিত অভিযান, অথবা সাজানো নাটক। কিছুক্ষণ আগেই সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে, আর নাবাতিয়েহ ও আশপাশের এলাকায় গোলাবর্ষণ চলছে। তারা কোন যুদ্ধবিরতির কথা বলছে? এখানে কোনো যুদ্ধবিরতি নেই।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবানন ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর জানিয়েছে, আগামী ২ ও ৩ জুন দুই পক্ষের মধ্যে আবারও বৈঠক হবে। পাশাপাশি ২৯ মে থেকে পেন্টাগনের তত্ত্বাবধানে ইসরাইল ও লেবাননের সেনাবাহিনীর মধ্যে আলাদা সামরিক আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে হিজবুল্লাহ সরাসরি এই আলোচনার বিরোধিতা করছে এবং তারা আলোচনায় অংশ নেয়নি।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেও থামেনি পাল্টাপাল্টি হামলা। বৈরুতের ওয়াটারফ্রন্ট এলাকায় বাস্তুচ্যুতদের সহায়তায় কাজ করা সমাজকর্মী মারিও সেমান বলেন, ‘প্রতিদিনই গোলাবর্ষণ আর হামলার খবর আসছে। যদি হামলাই চলতে থাকে, তাহলে মানুষ কীভাবে বিশ্বাস করবে যে যুদ্ধ বন্ধ হয়েছে? ক্যাম্পে থাকা পরিবারগুলোর একটাই দাবি তারা নিজেদের ঘরে ফিরতে চায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম, যুদ্ধবিরতি পুরো লেবাননজুড়ে কার্যকর হবে, বিশেষ করে দক্ষিণ লেবাননে। আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দক্ষিণে গোলাগুলি বন্ধ হওয়া, যাতে মানুষ স্বস্তি পায়। আবার সেখানে বসবাস শুরু করতে পারে।’
একই ধরনের উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে বৈরুতের হামরা স্ট্রিটের ব্যবসায়ী ও পথচারীদের মাঝেও।
তারা এই চুক্তিকে বিশ্বাসঘাতকতা বলে উল্লেখ করেছেন। দক্ষিণ লেবাননে গোলাগুলি বন্ধ হওয়াটাই এখন সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন বাসিন্দারা। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও নিহতের সংখ্যা ৪শ’র কাছাকাছি। তাই নতুন করে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর খবরেও স্বস্তি পাচ্ছেন না বাস্তুচ্যুত লেবানিজরা।


