নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন পূর্বে সিলেটের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন স্থগিত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ও চেম্বারের প্রশাসক বরাবরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব চৌধুরী সামিয়া ইয়াসমীন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জেলার বিয়ানীবাজার চেম্বার অব কমার্সের সাথে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু পূর্বে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক সংবাদ সম্মেলন করেন নির্বাচনে সিলেট ব্যবসায়ী ফোরাম মনোনীত এহতেশামুল-এনামুল-নাফিস পরিষদের প্রার্থীরা। রোববার বিকাল ৩টার দিকে বিয়ানীবাজার প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘটনায় তারা হতাশা ব্যক্ত করেন। সিলেটের ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। এমনকি প্রয়োজনে আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্বাচন যাতে যথাযথ সময়ে কিংবা দ্রুত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় সংবাদ সম্মেলনের পরিষদের প্রার্থীরা সে পদক্ষেপ নেয়ার ইঙ্গিত দেন।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রেরিত ২৬ অক্টোবর পাঠানো আদেশে ‘দি সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন স্থগিত করে সদস্যপদ পুনরায় যাচাই বাচাই করে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে পুনঃতফসিলের মাধ্যমে দুই বছর মেয়াদি (২০২৫-২-২৬) পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রেরণ করা হলো।’

চেম্বারের প্রশাসক ও এডিএম সাঈদা পারভীন বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানান, নির্বাচন স্থগিতের নির্দেশনা তিনি পেয়েছেন। এর বাইরে আর কোনও মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।

সংবাদ সম্মেলনে সিলেট ব্যবসায়ী ফোরাম মনোনীত প্যানেলের সভাপতি প্রার্থী এহতেশাসুল হক চৌধুরী, সিনিয়র সহসভাপতি এনামুল কুদ্দুছ চৌধুরী, সহসভাপতি মো. নাফিস জুবায়ের চৌধুরীসহ প্যানলের সবাই উপস্থিত ছিলেন। এহতেশামুল হক চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে মাত্র কয়েকদিন পূর্বে (পাঁচদিন) স্থগিত আদেশ আশায় আমরা আশাহত হয়েছি। গত পনেদিন থেকে জেলার প্রত্যেক উপজেলায় গিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা আমাদের প্যানেল থেকে চালানো হচ্ছে। এ অবস্থায় নির্বাচন স্থগিত আমাদের জন্য বিনা মেঘে বজ্রপাতের সামিল। আমরা মনে করি এর পেছনে সুদূর প্রয়াসি কোন ষড়যন্ত্র রয়েছে। প্যানেলের সিনিয়র সহসভাপতি প্রার্থী এনামুল হক চৌধুরী বলেন, নির্বাচন স্থগিত হওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। সিলেটের ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে নির্বাচন সথা সময়ে এবংদ্রুত সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠানের জন্য আমরা আইনী পদক্ষেপ নেয়ার চিন্তা করছি। যাই করি সকল ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা কওে আমরা সিদ্ধান্ত নেব। প্যানেলের পরিচালক পদপ্রার্থী মোতাহার হোসেন বলেন, সদস্য পদে কোন অভিযোগ থাকলে সেটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অভিযোগ দায়ের করার নিয়ম ছিল। সেটি না করে নির্বাচন বানচাল করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ প্রেরণ করা হয়েছে। আমরা এরকম হীন ঘটনায় প্রতিবাদ জানাই।

প্রসঙ্গত, আগামী ১ নভেম্বর সিলেট চেম্বারের নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্ধারিত তারিখ রয়েছে। নির্বাচনে ব্যবসায়ীরা সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ ও সম্মিলিত ব্যবসায়ী ফোরাম নামে দুটি প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছেন।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version