Collected from: tsports.com
ম্যাচের শুরুতে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে নিজেদের চেয়ে ৪১ ধাপ পিছিয়ে থাকা ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ‘প্রত্যাশিত’ লিড নিলো পর্তুগাল। এক গোলের লিড নিয়ে যেন কিছুটা স্বস্তিতে ডুব দিলেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, ব্রুনো ফের্নান্দেসরা। সেই সুযোগ লুফে নিল আফ্রিকার দেশটি। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে তারা রুখে দিলো তারকাসমৃদ্ধ দল পর্তুগালকে।
বুধবার রাতে বিশ্বকাপের ‘কে’ গ্রুপের প্রথম ম্যাচে ডি আর কঙ্গোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে পর্তুগাল। প্রথমার্ধেই হয়েছে দুটি গোল। ষষ্ঠ মিনিটে জোয়াও নেভেসের গোলে লিড নেয় পর্তুগাল। এই অর্ধের যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ডিআর কঙ্গোকে সমতায় ফেরান ইয়োয়ান উইসা।
ডিআর কঙ্গো আন্তঃ-কনফেডারেশন প্লে-অফের খেলে বিশ্বকাপের জন্য যোগ্যতা অর্জন করে। মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় অতিরিক্ত সময়ের পর জ্যামাইকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ৫২ বছর পর বিশ্বকাপের টিকিট কাটে দলটি। প্লে-অফসহ ১৩টি বাছাইপর্বের ম্যাচের মধ্যে দুটিতে ড্র করে তারা। ৬টিতে জয় পাওয়া ম্যাচের ফলাফলও নিস্পত্তি হয়েছে এক কিংবা দুই গোলের ব্যবধানে। সেই ধারা অব্যহত রেখে বিশ্বমঞ্চে আরও একবার দুর্দান্ত ডিফেন্স মুগ্ধ করেছে দলটি।
যুক্তরাষ্ট্রের হাউজস্টোন স্টেডিয়ামে এদিন ষষ্ঠ মিনিটে পেদ্রো নেটোর ক্রসে হেডে টপ কর্নার দিয়ে জাল খুঁজে নেন জোয়াও নেভেস। পানি পান বিরতি পর্যন্ত পরের ১৬ মিনিট গোলের জন্য ডিআর কঙ্গোর রক্ষণে হানা দিয়েছে পর্তুগাল। বেশ কয়েকটি আক্রমণও ছিল, তবে প্রতিপক্ষের রক্ষণ দেয়ালে বাঁধাগ্রস্ত হয়েছে সব।
খেলার ৩৩ মিনিটে প্রধমবার গোলে শট নেয় ডিআর কঙ্গো। তবে পর্তুগিজ গোলকিপার দিয়েগো কস্তার জন্য ইদো কায়েম্বের শট আটকাতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি।
৫ মিনিট পর নুনো মেন্ডিস বল নিয়ে বিপদসীমায় ঢুকে পড়লেও ছোট বক্সে ঢোকার আগে তাঁকে রুখে দেন ডিআর কঙ্গোর ডিফেন্ডাররা। ৪৫ মিনিটে প্রতিপক্ষের জমাট রক্ষণে পরীক্ষার সামনে পড়েন ভিতিনিয়া। খানিক পর আরেকটি প্রতি আক্রমণে পর্তুগালকে কিছুটা নাড়িয়ে দেয় ডিআর কঙ্গোর লেফট-ব্যাক আর্থার মাসুয়াকু।
বিরতির ঠিক আগমুহূর্তে ছোট কর্নারের পর মাসুয়াকুর দূরপাল্লার নিখুঁত ক্রসটি খুঁজে নেয় সম্পূর্ণ অরক্ষিত অবস্থায় থাকা ইয়োয়ান উইসাকে। দারুণ এক লাফে পর্তুগিজ গোলকিপার কস্তাকে পরাস্ত করে উইসা বল জালে পাঠান। আর তাতেই ৫২ বছর পর বিশ্বমঞ্চে গোলের আনন্দে মাতোয়ারা হয় কঙ্গোর ফুটবলাররা। ১-১ গোলের সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতি থেকে ফিরেই এগিয়ে যাওয়ার ভালো সুযোগ আসে পর্তুগালের সামনে। যদিও নেটোর ক্রসে গোলমুখের সামনে হেড নিতে পারেননি ফ্রান্সিসকো কনসেসাও। একটু পর বাকাম্বুর নিচু শট ঝাপিয়ে পড়ে রুখে দেন দিয়োগো কস্তা।
৫৩ মিনিটে নুনো মেন্ডিসের নিচু ক্রসে ছোট বক্সে পা ছোয়াতে পারেননি নেভেস। তাঁকে আটকে দেন ডিআর কঙ্গোর ডিফেন্ডার মাসুয়াকুর ও আজেল তুয়ানজেবে।
পরের মিনিটে দারুণ এক ওভারহেড কিকে জোয়াও ক্যানসেলো জাল খুঁজে নেন, তবে অফসাইডের কারণে গোল মেলেনি এবার। ৫৭ মিনিটে ব্রুনো ফের্নান্দেসের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে পোস্টে শট নেন ইয়োয়ান উইসা। এই ফরোয়ার্ডের আড়াআড়ি শটটি ফিরিয়ে দেন কস্তা।
৬৮ মিনিটে কনসেসাওয়ের দারুণ কাটব্যাকে রোনালদো জালের দেখা পাননি। তাঁর শটে বল বেরিয়ে যায় পোস্টঘেঁষে। এই অর্ধের পানি পান রিরতির পর ফরোয়ার্ড রাফায়েল লিও এবং ডিফেন্ডার নেলসন সেমেদোকে মাঠে নামান কোচ রবার্তো মার্তিনেস।
৭৪ মিনিটে আরও একবার ছোটবক্সে বল পেয়েও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি রোনালদো। পরের ৩ মিনিটে প্রতিপক্ষের বক্সের সামনে একটানা হানা দিয়েছে পর্তুগাল, যদিও ডিআর কঙ্গোর রক্ষণেদেয়াল ভাঙতে পারেনি কেউ।
পুরো ৯০ মিনিটে এদিন মাঠে ছিলেন পর্তুগিজ যুবরাজ রোনালদো। যদিও দুটি ভালো সুযোগ হাতছাড়া করেছেন তিনি। প্রথমার্ধ একেবারেই নিস্প্রভ ছিলেন বর্তমানে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাসরে খেলা অভিজ্ঞ উইঙ্গার। ৭৭ মিনিটে প্রতি আক্রমণ থেকে ডিআর কঙ্গোর ফরোয়ার্ড বাকাম্বুর শট চলে যায় পোস্টের উপরে দিয়ে। শেষ দিকে আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়েছে ডিআর কঙ্গো। চেষ্টা চালিয়েছে পর্তুগালও। তবে দুই দলই আর জালের দেখা পায়নি।
আগামী ২৩ জুন গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানকে মোকাবিলা করবে পর্তুগাল। আর পরের দিন ডিআর কঙ্গোর সামনে কলম্বিয়া।

