Collected from: tsports.com
বয়স ৩৯ ছুঁই ছুঁই। ক্যানসাস সিটির মাঠে যখন তিনি বল পায়ে ছোটেন, তখন মনে হয় মেসি আছেন সেই আগের মতোই! আলজেরিয়ার বিপক্ষে বিশ্বকাপ নিজেদের প্রথম ম্যাচেই ৮০ মিনিটে হ্যাটট্রিক—লিওনেল মেসি বুঝিয়ে দিলেন, ফুরিয়ে যাওয়ার জন্য উত্তর আমেরিকায় আসেননি। এই তিন গোলের সৌজন্যে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড তালিকায় মিরোস্লাভ ক্লোসার পাশে বসেছেন তিনি। প্রথম ফুটবলার হিসেবে পা রেখেছেন ষষ্ঠ বিশ্বকাপে।
রেকর্ডের বরপুত্রকে নিয়ে ভক্তদের আকাশচুম্বী চাওয়ার যেন শেষ নেই। ক্যানসাস সিটির গ্যালারিতে যখন ‘মেসি-মেসি’ গর্জন, তখনই ফুটবলপ্রেমীদের মনে উঁকি দিতে শুরু করেছে এক অবাস্তব কল্পনা—২০৩০ সালের সপ্তম বিশ্বকাপেও কি দেখা যাবে এই জাদুকরকে?
আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’ যখন মিক্সড জোনে মেসির দিকে এই প্রশ্নটি ছুড়ে দিল, তখন প্রথমে আলতো করে হাসলেন। যেন বহু দূরের কোনো রূপকথা নিয়ে কেউ রসিকতা করছে। তবে পরক্ষণেই চিরচেনা বিনম্র ভঙ্গিতে হেসেই উড়িয়ে দিলেন সেই সম্ভাবনা, ‘না, না, এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়, হা হা।’
আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার আগে থেকেই খাতার পাতায় জমে ছিল রেকর্ডের স্তূপ। মাঠে নামতেই ওচোয়াদের পেছনে ফেলে এককভাবে ইতিহাসের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার অনন্য কীর্তি গড়েন মেসি। পর্তুগালের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো অবশ্য আজই তাঁর পাশে বসবেন। আর মাঠের খেলায় কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছেলে, আলজেরিয়ার গোলরক্ষক লুকা জিদানকে পুরো ম্যাচজুড়ে যেভাবে বোকা বানালেন, তাতে ডিফেন্ডারদের জন্য তিনি এখনো এক জীবন্ত দুঃস্বপ্ন।
ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যম যখন মেসির এই অমরত্ব ছোঁয়া রাত নিয়ে গুণগানে ব্যস্ত, মেসি তখন মিক্সড জোনে বাস্তববাদী এক সেনাপতি। ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে তাঁর বয়স হবে ৪২ বছর। যদিও অতীতে বহুবার বলেছেন, ‘যতদিন শরীর সায় দেবে, খেলে যাব।’ কিন্তু বিশ্বকাপের মতো চরম মঞ্চে যে শরীর আর টানবে না, সেটা ভালো করেই জানেন এলএমটেন। তাই সপ্তম বিশ্বকাপের স্বপ্নালু মেঘ এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়ে তাঁর পুরো মনোযোগ এখন ১৯ জুলাই নিউ জার্সির ফাইনালের দিকে। কাতার বিশ্বকাপের সেই মহাকাব্যিক সাফল্যের পুনরাবৃত্তি চান মহাতারকা।
বাছাইপর্ব বা প্রীতি ম্যাচ নয়, বিশ্বকাপের মঞ্চ যে কতটা কঠিন, তা ভালো করেই জানেন মেসি। প্রথম ম্যাচের জয় সহজ মনে হলেও আলজেরিয়ার বিপক্ষে লড়াইটা মোটেও সহজ ছিল না বলে মনে করেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক, ‘সত্যি বলতে, আমরা বেশ ভালো অবস্থায় আছি এবং লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। এই দলটা সবসময়ই প্রমাণ করেছে যে তারা সহজে হাল ছাড়ে না। প্রতিপক্ষ যেই হোক, আমরা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে চাই। ম্যাচের প্রথমার্ধ মোটেও সহজ ছিল না, দিন দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা কঠিন হয়ে উঠছে। আপনারা ইতিমধ্যেই দেখেছেন, ম্যাচগুলো কতটা সমানে-সমানে হচ্ছে এবং কেউ কাউকে এক ইঞ্চিও ছেড়ে কথা বলছে না।’
ষষ্ঠ বিশ্বকাপেই যেখানে ইতিহাস ওলটপালট করে দিচ্ছেন, সেখানে সপ্তম বিশ্বকাপের আকাশকুসুম চিন্তা না করে মেসি পা রাখছেন মাটিতেই। বিদায়ের গোধূলিলগ্নে দাঁড়িয়ে থাকা মেসি মাইক্রোফোনের সামনে শেষ প্রত্যয় জানিয়ে গেলেন, ‘আমরা লড়াই করব এবং নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দেব।’

