Collected from: somoynews.tv
সদকাতুল ফিতর আরবি যৌগিক শব্দ। সদকা অর্থ দান। আর ফিতর অর্থ রোজা ভঙ্গকরণ। সাধারণ অর্থে সদকাতুল ফিতর হলো রোজা ভঙ্গের দান। আর ইসলামি শরিয়তের পরিভাষায় একমাস রোজা রাখার পর জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত গরিবদের মাঝে নির্দিষ্ট পরিমাণে যে খাদ্য কিংবা তার অর্থমূল্য বিতরণ করা হয়, তাই সদকাতুল ফিতর।
দ্বিতীয় হিজরিতে রমজানের রোজা ফরজ হয়। আর এ বছরই নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদেরকে সদকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ দেন। মূলত নবীজির নির্দেশেই প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর নিজের ও নিজের অধীন লোকদের সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব।
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন,
রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সদকাতুল ফিতর আবশ্যক করেছেন। এর পরিমাণ হলো, এক সা জব বা এক সা খেজুর। ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন ও নারী-পুরুষ সবার ওপরই এটি ওয়াজিব। (বুখারি, হাদিস: ১৫১২)
যে কারণে সদকাতুল ফিতর দিতে হয়
জাকাতের মতো সদকাতুল ফিতরও একটি আর্থিক ইবাদত। পবিত্র মাহে রমজানে সিয়াম পালন করতে গিয়ে সাধারণত আমাদের অনেক ভুল-ত্রুটি হয়ে যায়। সেই ভুল-ত্রুটির ক্ষতিপূরণ হিসেবে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি ইবাদতের নাম সদকাতুল ফিতর।
এছাড়াও ঈদের দিন হলো আনন্দের দিন। অভাবের কারণে গরিব, অসহায় ও মিসকিনরা যেন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয় সাদকাতুল ফিতর ওয়াজিব করার এটিও একটি কারণ। এ প্রসঙ্গে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেন,
রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদকাতুল ফিতর অবধারিত করেছেন অশ্লীল কথা ও অর্থহীন কাজ হতে রমজানের রোজাকে পবিত্র করার জন্য এবং গরিব-মিসকিনদের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য। (আবু দাউদ, হাদিস: ১৬০৯)
সদকাতুল ফিতর কার ওপর ওয়াজিব
সদকাতুল ফিতরের নিসাব জাকাতের নিসাবের সমপরিমাণ। অর্থাৎ কারো কাছে সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা অথবা তার সমমূল্যের নগদ অর্থ কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অতিরিক্ত সম্পদ; ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময়, বিদ্যমান থাকলে- তার ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে। যার ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব, তিনি নিজের পক্ষ থেকে যেমন আদায় করবেন, তেমনি নিজের অধীনদের পক্ষ থেকেও আদায় করবেন। তবে এতে জাকাতের মতো এক বছর অতিক্রম হওয়া শর্ত নয়। (ফাতহুল ক্বাদির : ২/২৮১)।
ফিতরা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যে-পাঁচটি খাদ্যপণ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়, তা হলো, আটা, যব, খেজুর, কিশমিশ ও পনির। সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ সম্পর্কে শরিয়তে দুটি মাপকাঠি নির্ধারণ করা হয়েছে, তা হচ্ছে ‘এক সা’ ও ‘অর্ধ সা’। খেজুর, পনির, জব ও কিশমিশ দ্বারা আদায়ের ক্ষেত্রে এক ‘সা’। আর গম দ্বারা আদায়ের ক্ষেত্রে ‘অর্ধ সা’। ‘সা’ হলো প্রাচীন আরব পরিমাপের একক। কেজি ও গ্রাম হিসেবে ‘এক সা’ সমপরিমাণ ৩ কেজি ৩শ’ গ্রাম এবং ‘অর্ধ সা’ সমপরিমাণ ১ কেজি ৬শ ৫০ গ্রাম। এসব পণ্যের যে-কোনো একটি দ্বারা বা এর অর্থমূল্য দ্বারা ফিতরা আদায় করা যাবে।
ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রে উত্তম হলো, নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি মূল্যের খাদ্যবস্তুকে মাপকাঠি ধরে ফিতরা আদায় করা। কেননা সদকার মূল লক্ষ্যই হলো- গরিবদের প্রয়োজন পূরণ ও তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ। কেউ পাঁচ হাজার টাকা মূল্যের খেজুর খেতে অভ্যস্ত হয়ে যদি ৫০-৬০ টাকা মূল্যের গমের হিসেবে ফিতরা দেন, তবে তা কতটুকু যুক্তিযুক্ত সে প্রশ্ন বিবেকের কাছে থেকেই যায়। যদিও ইসলামি শরিয়তে সর্বনিম্ন মূল্যে ফিতরা আদায় করার দরজা খোলা রাখা হয়েছে।
দ্বিতীয় হিজরিতে রমজানের রোজা ফরজ হয়। আর এ বছরই নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবিদেরকে সদকাতুল ফিতর আদায়ের নির্দেশ দেন। মূলত নবীজির নির্দেশেই প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর নিজের ও নিজের অধীন লোকদের সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব।
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন,
রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সদকাতুল ফিতর আবশ্যক করেছেন। এর পরিমাণ হলো, এক সা জব বা এক সা খেজুর। ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন ও নারী-পুরুষ সবার ওপরই এটি ওয়াজিব। (বুখারি, হাদিস: ১৫১২)
যে কারণে সদকাতুল ফিতর দিতে হয়
জাকাতের মতো সদকাতুল ফিতরও একটি আর্থিক ইবাদত। পবিত্র মাহে রমজানে সিয়াম পালন করতে গিয়ে সাধারণত আমাদের অনেক ভুল-ত্রুটি হয়ে যায়। সেই ভুল-ত্রুটির ক্ষতিপূরণ হিসেবে মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত একটি ইবাদতের নাম সদকাতুল ফিতর।
এছাড়াও ঈদের দিন হলো আনন্দের দিন। অভাবের কারণে গরিব, অসহায় ও মিসকিনরা যেন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয় সাদকাতুল ফিতর ওয়াজিব করার এটিও একটি কারণ। এ প্রসঙ্গে হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বর্ণনা করেন,
রসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সদকাতুল ফিতর অবধারিত করেছেন অশ্লীল কথা ও অর্থহীন কাজ হতে রমজানের রোজাকে পবিত্র করার জন্য এবং গরিব-মিসকিনদের খাবারের ব্যবস্থা করার জন্য। (আবু দাউদ, হাদিস: ১৬০৯)
সদকাতুল ফিতর কার ওপর ওয়াজিব
সদকাতুল ফিতরের নিসাব জাকাতের নিসাবের সমপরিমাণ। অর্থাৎ কারো কাছে সাড়ে সাত ভরি সোনা বা সাড়ে বায়ান্ন ভরি রুপা অথবা তার সমমূল্যের নগদ অর্থ কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের অতিরিক্ত সম্পদ; ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময়, বিদ্যমান থাকলে- তার ওপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব হবে। যার ওপর সদকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব, তিনি নিজের পক্ষ থেকে যেমন আদায় করবেন, তেমনি নিজের অধীনদের পক্ষ থেকেও আদায় করবেন। তবে এতে জাকাতের মতো এক বছর অতিক্রম হওয়া শর্ত নয়। (ফাতহুল ক্বাদির : ২/২৮১)।
ফিতরা নির্ধারণের ক্ষেত্রে যে-পাঁচটি খাদ্যপণ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়, তা হলো, আটা, যব, খেজুর, কিশমিশ ও পনির। সদকাতুল ফিতরের পরিমাণ সম্পর্কে শরিয়তে দুটি মাপকাঠি নির্ধারণ করা হয়েছে, তা হচ্ছে ‘এক সা’ ও ‘অর্ধ সা’। খেজুর, পনির, জব ও কিশমিশ দ্বারা আদায়ের ক্ষেত্রে এক ‘সা’। আর গম দ্বারা আদায়ের ক্ষেত্রে ‘অর্ধ সা’। ‘সা’ হলো প্রাচীন আরব পরিমাপের একক। কেজি ও গ্রাম হিসেবে ‘এক সা’ সমপরিমাণ ৩ কেজি ৩শ’ গ্রাম এবং ‘অর্ধ সা’ সমপরিমাণ ১ কেজি ৬শ ৫০ গ্রাম। এসব পণ্যের যে-কোনো একটি দ্বারা বা এর অর্থমূল্য দ্বারা ফিতরা আদায় করা যাবে।
ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রে উত্তম হলো, নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী বেশি মূল্যের খাদ্যবস্তুকে মাপকাঠি ধরে ফিতরা আদায় করা। কেননা সদকার মূল লক্ষ্যই হলো- গরিবদের প্রয়োজন পূরণ ও তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ। কেউ পাঁচ হাজার টাকা মূল্যের খেজুর খেতে অভ্যস্ত হয়ে যদি ৫০-৬০ টাকা মূল্যের গমের হিসেবে ফিতরা দেন, তবে তা কতটুকু যুক্তিযুক্ত সে প্রশ্ন বিবেকের কাছে থেকেই যায়। যদিও ইসলামি শরিয়তে সর্বনিম্ন মূল্যে ফিতরা আদায় করার দরজা খোলা রাখা হয়েছে।