Collected from: tsports.com
‘এইচ’ গ্রুপের শেষ ম্যাচের আগে জমে উঠেছিল জটিল সমীকরণ আর টানটান উত্তেজনার আবহ। পয়েন্ট টেবিলের মারপ্যাঁচে যেকোনো মুহূর্তে দৃশ্যপট বদলে যাওয়ার সব আয়োজনই যেন ছিল প্রস্তুত।
শুরুটা করা যাক ‘অভাগা’ উরুগুয়েকে দিয়ে। দুইবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা জানত, আজকের ম্যাচে জয় পেলেই তারা সরাসরি ‘রাউন্ড অব ৩২’-এ পৌঁছে যাবে। কিন্তু ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন ও টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল স্পেনের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত তারা পরাস্তই হলো। মার্সেলো বিয়েলসার শিষ্যরা অন্তত ড্র করতে পারলেও ক্ষীণ এক আশা বেঁচে থাকত, তবে ‘লা সেলেস্তেরা’ ‘লা রোহাদের’ কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে বসে। এই পরাজয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো তাদের বিশ্বকাপ অভিযান গ্রুপ পর্বেই শেষ হয়ে গেল।
অন্যদিকে, আগেই পরবর্তী রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত করা স্পেনের জন্য এই জয়টি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনুষ্ঠানিকতা পূর্ণ করল মাত্র।
এই গ্রুপের সবচেয়ে বড় চমক হয়ে এসেছে কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী সবচেয়ে ছোট দেশ হিসেবে দ্বীপরাষ্ট্রটির আকাশে-বাতাসে এখন বাঁধনহারা আনন্দের সুর। প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে পা রেখেই তারা নকআউটে খেলার অভাবনীয় যোগ্যতা অর্জন করল। ‘ব্লু শার্কস’দের জন্য অপেক্ষা করছে আরও বড় এক রোমাঞ্চকর মূহুর্তের; সৌদি আরবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে তারা শেষ ৩২-এ মুখোমুখি হবে বর্তমান ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার।
আগামী ৪ জুলাই মায়ামিতে বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় শুরু হবে আর্জেন্টিনা–কেপ ভার্দে ম্যাচ। আর এইচ’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে ওঠায় শেষ ৩২ দলের রাউন্ডে ‘জে’ গ্রুপে রানার্স আপ দলের মুখোমুখি হবে স্পেন। আগামী ২ জুলাই লস অ্যাঞ্জেলেসে বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় শেষ ৩২ দলের রাউন্ডের ম্যাচে অস্ট্রিয়া কিংবা আলজেরিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামবে স্পেন।
মেক্সিকোর গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধে বায়েনার করা গোলটিই হয়ে থাকল স্পেন-উরুগুয়ে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণী। যে গোল উরুগুয়ের অভিজ্ঞ গোলকিপার মুসলেরা সম্ভবত ভুলে যেতে চাইবেন, কারণ তাঁর ভুলটিই ছিল গোল খাওয়ার মূল কারণ।
পিচের সামনের দিকে উরুগুয়ের ডিফেন্স বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে স্পেন আক্রমণে ওঠার সুযোগ পায়। এরপর লরেন্তে বক্সের ভেতর দিয়ে নিচু শটে বল বাড়ান, উরুগুয়ের খেলোয়াড়দের সহজেই সামাল দেওয়ার কথা ছিল সেটা। কিন্তু আলেক্স বায়েনা দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঘুরে শট নেন, আর বলটি গোলকিপার মুসলেরার হাত ফস্কে জালে জড়িয়ে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধ ছিল বেশ উত্তপ্ত, উরুগুয়ের কানোবিও স্পেনের সেন্টার-ব্যাক পাউ কুবারসিকে বিপজ্জনক ফাউল করলে রেফারির সঙ্গে খেলোয়াড়রা তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে যায়। এরমধ্যে স্পেন গোল ব্যবধান বাড়ানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তার আর প্রয়োজনই হয়নি।
রেফারির শেষ বাঁশি বাজলেই টানা দুই বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া নিশ্চিত হয় উরুগুয়ের। আর ক্ষেপাটে কোচ মার্সেলো বিয়েলসার ভবিষ্যৎও যে এখন চরম অনিশ্চয়তাও পড়ে গেল।
‘এইচ’ গ্রুপের অন্য ম্যাচ হলো ইতিহাসের সাক্ষী। স্পেন ও উরুগুয়েকে রুখে দেওয়া এবারের বিশ্বকাপের বিস্ময় প্রথমবার বিশ্বকাপে খেলতে এসে যা করল, ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের ইতিহাসে তা লিখা থাকবে স্বর্ণাক্ষরে।
সৌদির বিপক্ষে কেপ ভার্দের এই ম্যাচের প্রথমার্ধে গোলের সুযোগ ছিল বেশ কম। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে উত্তজনা বেড়েছে এবং ম্যাচের শেষদিকে কেপ ভার্দেকেই বেশি আক্রমণাত্মক মনে হয়েছে। ওয়াগনার পিনার একটি সুযোগ ডি-বক্সের ভেতর আল আমরি আটকে দেন। শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগমুহূর্তে মনে হয়েছিল তারা জয় ছিনিয়ে নিতে যাচ্ছে, যখন রদ্রিগেসের বাড়ানো বল পেয়ে দা কস্তা ফাঁকা পোস্টের সামনে থেকেও লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন। গোলশূন্য ড্র হলেও, গোলপর সুযোগ তৈরিতে সৌদি আরবের চেয়ে ঢের এগিয়ে ছিল কেপ ভার্দে।
শেষ ৩২-এ তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে এখন কেবল সপ্তম স্বর্গে উড়ে বেড়ানোর সময় তাদের।


