Collected from: tsprots.com
পর্তুগালকে যেভাবে রুখে দিয়ে হইচই ফেলে দিয়েছিল কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ঠিক সেভবেই কলম্বিয়াকেও আটকে দেওয়ার পথে ছিল আফ্রিকার দেশটি। দুর্দান্ত রক্ষণ আর গোলকিপারের দেয়াল হয়ে যাওয়ায় গোল পেতে ঘাম ঝরাতে হয়েছে কলম্বিয়াকে। শেষ পর্যন্ত নূন্যতম ব্যবধানে জয় পেয়ে বিশ্বকাপের নকআউট নিশ্চিত করে ল্যাটিন আমেরিকার দলটি।
গুয়াদালাহারা স্টেডিয়ামে আজ কঙ্গো প্রজাতন্ত্রকে ১-০ গোলে হারিয়েছে কলম্বিয়া। আফ্রিকার দেশটির বিপক্ষে ব্যবধান গড়ে দেওয়া গোলটি এসেছে দানিয়েল মুনিওজের নৈপুণ্যে। তবে এই ম্যাচের নায়ক হতে পারতেন কঙ্গোর গোলকিপার লিওনেল এমপাসি। কলম্বিয়ার আক্রমণের তীব্রতার মধ্যেও প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এই গোলকিপার মোট ৮টি সেভ দিয়েছেন।
বিশ্বকাপে ‘কে’ গ্রুপে দুই ম্যাচে দুই জয় পাওয়া কলম্বিয়ার পয়েন্ট ৬। আর কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ড্রয়ের পর উজবেকিস্তানকে বিধ্বস্ত করা পর্তুগালের সংগ্রহ ৪। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোদের চমকে দেওয়া কঙ্গো ১ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে আছে। টানা দুই ম্যাচ হারা অভিষিক্ত উজবেকিস্তান পয়েন্ট টেবিলের তলানীতে থেকে বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে আছে।
প্রথমার্ধ জুড়ে মাঠের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি ছিল কলম্বিয়ার পকেটেই। ম্যাচের একদম শুরু থেকেই অল-আউট আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজালেও, কপাল মন্দ থাকায় গোলের দেখা পাচ্ছিল না তারা। ম্যাচের ৪ মিনিটেই লিড পেতে পারত কলম্বিয়া, তবে জন আরিয়াসের বুলেট গতির শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দেন কঙ্গোর প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানো গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি।
এর ঠিক চার মিনিট পর (৮ মিনিটে) দানিয়েল মুনিওজ কঙ্গোর জাল কাঁপিয়ে উল্লাসে মাতলেও অফসাইডের সুতোয় কাটা পড়ে সেই গোল। গোল বাতিলের ধাক্কা ভুলে কঙ্গোর রক্ষণকে নাচিয়ে একের পর এক আক্রমণ জারি রাখে কলম্বিয়া। তবে প্রতিপক্ষের মুহুর্মুহু আক্রমণের সামনে একাই লড়াই চালিয়ে যান এমপাসি। শুরুর ২০ মিনিটেই অন্তত ৫টি নিশ্চিত গোলবন্যা থেকে দলকে বাঁচিয়েছেন এই গোলকিপার। পুরো প্রথমার্ধ জুড়ে তাঁর শরীরী ভাষা আর নজরকাড়া ৬টি সেভই মূলত কঙ্গোকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখে।
অন্যদিকে কঙ্গোও পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা চালিয়ে যায়। ৪২ মিনিটে আর্থার মাসুয়াকুর বিপজ্জনক ক্রস কলম্বিয়ার রক্ষণভাগ অতিক্রম করলেও কোনো সতীর্থ তা কাজে লাগাতে পারেননি। ৪৪ মিনিটে সেড্রিক বাকাম্বুর শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
টানা দ্বিতীয় ম্যাচের মতো কোচ নেস্তর লোরেনসোর খেলোয়াড় বদলের ছকটাই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেয়। এবার হামেস রদ্রিগেসকে তুলে মাঠে নামান হুয়ান কিন্তেরোকে। মাঠে নেমেই ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেন কিন্তেরো; আর শেষমেশ তাঁরই এক নিখুঁত থ্রু-পাস থেকে বল পেয়ে প্রথম ছোঁয়াতেই শট নেন মুনিওজ। ম্যাচের প্রায় পুরো সময়ই দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কঙ্গো গোলকিপার এমপাসিকে পরাস্ত করে বল জালে জড়ান ক্রিস্টল প্যালেসের এই রাইট-ব্যাক।
ম্যাচের শেষ দিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করার আরও দুটি সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল কলম্বিয়া। তবে লুইস দিয়াজের দুটি গোলই কপাল মন্দে বাতিল হয়ে যায়—প্রথমটি আক্রমণে ওঠার সময় ফাউল হওয়ায় এবং পরেরটি অফসাইডের কারণে। তবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে কনমেবল অঞ্চলের দলটির জন্য এই এক গোলই যথেষ্ট ছিল।
আগামী ২৮ জুন মায়ামি স্টেডিয়ামে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লড়াইয়ে পর্তুগালের মুখোমুখি হবে কলম্বিয়া। একই দিনে আটলান্টা স্টেডিয়ামে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বিশ্বকাপে টিকে থাকার শেষ লড়াইয়ে নামবে ডিআর কঙ্গো।


