Collected from: somoynews.tv

পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরাকি জাহাজ চলাচলের ওপর থেকে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। এই সিদ্ধান্তকে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর দেশটির কঠোর নিয়ন্ত্রণ কিছুটা শিথিল করার সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শনিবার (৪ এপ্রিল) ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় দফতর খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্সের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইরাক এই প্রণালিতে সব ধরনের বিধিনিষেধ থেকে অব্যাহতি পাবে। তবে ‘শত্রু দেশগুলোর’ জন্য আগের মতোই কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।

 
বিবৃতিতে ইরাকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলা হয়েছে, ‘ইরাকের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। আপনারা এমন এক জাতি যারা মার্কিন দখলের ক্ষত বহন করছেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আপনাদের লড়াই প্রশংসা ও শ্রদ্ধার যোগ্য।’
 
ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফুয়াদ হুসেইন হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরাকি তেল ট্যাঙ্কারগুলোকে যাতায়াতের অনুমতি দেয়ায় ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন এবং যুদ্ধ প্রত্যাখ্যানের বাগদাদের নীতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। 
 
জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর পথটির ওপর নিয়ন্ত্রণ নেয় ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সংশ্লিষ্ট জাহাজের যাতায়াত বন্ধ করে দেয়। 
 
দেশটির সামরিক বাহিনী বলেছে, প্রণালীটি তাদের নৌবাহিনীর ‘দৃঢ় ও কর্তৃত্বপূর্ণ’ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এটি ইরানের ‘শত্রুদের জন্য’ বন্ধই থাকবে। এর ফলে একদিকে যেমন উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস রফতানি হুমকির মুখে পড়েছে। অন্যদিকে বিশ্বের বহু দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
 
এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্প নতুন করে আবারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ইরান যদি সোমবারের (৬ এপ্রিল) মধ্যে কোনো চুক্তিতে না আসে কিংবা হরমুজ প্রণালী খুলে না দেয়, তাহলে ‘ভয়াবহ পরিণতি’ নেমে আসবে।
 
শনিবার (৪ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আমি ইরানকে ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম— চুক্তি করতে অথবা হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে। সময় ফুরিয়ে আসছে— আর মাত্র ৪৮ ঘণ্টা বাকি, এরপর তাদের ওপর জাহান্নাম নেমে আসবে।’
 
তবে বরাবরের মতো ট্রাম্পের এই ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির কেন্দ্রীয় সামরিক সদর দফতর খাতাম আল-আম্বিয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই হুমকি একটি ‘অসহায়, দিশেহারা, ভারসাম্যহীন ও বিবেচনাহীন কাজ।’ 
Share.
Leave A Reply

Exit mobile version