Collected from: somoynews.tv
পানি নিষ্কাশনে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন প্রায় ১৭০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিলেও ড্রেন ও বক্স কালভার্ট নির্মাণে ধীরগতির কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন নগরবাসী। অন্যদিকে রাজধানীতে এখনই জলাবদ্ধতার হওয়ায় আসন্ন বর্ষা মৌসুম নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
প্রায় প্রতি বছরই হাঁটু সমান পানিতে জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হয় নগরবাসীকে। চলতি মৌসুমেও মে মাসের প্রথম দিনের বৃষ্টিতেই রাজধানীর রাজারবাগ, নিউমার্কেটসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় হাঁটু সমান পানি জমে যায়। বর্ষার আগেই এমন জলাবদ্ধতা জনমনে শঙ্কা তৈরি করেছে।
প্রতিবছর বর্ষা এলেই তড়িঘড়ি করে নানা উদ্যোগ নেয় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। চলতি মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসন ও সড়ক-ড্রেন সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে মিরপুরের কাজীপাড়া এলাকায়। তবে এক মাস ধরে চলা খোঁড়াখুঁড়িতে কোথাও ভেঙে পড়েছে বৈদ্যুতিক খুঁটি, কোথাও সরু বাঁশের ওপর দিয়ে খোলা ড্রেন পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনাও ঘটছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আরও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করলে এসব সমস্যা এড়ানো যেত। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। রাস্তার কাজ দ্রুত শেষ করা দরকার।
এলাকাবাসীর ক্ষোভ, পুরোনো পাইপ ঠিক থাকলেও নতুন পাইপ বসানো হচ্ছে, যার পার্থক্য মাত্র ছয় ইঞ্চি। এতে ময়লা সহজে বের হবে না। অথচ এই কাজের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন ১২ থেকে ৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
স্থানীয়রা বলছেন, ড্রেন পরিষ্কার করলেই সমস্যা অনেকটাই কমে যেত। কিন্তু একই ধরনের পাইপ বসালে কোনো লাভ হবে না। পানির প্রবাহ ঠিক না থাকলে সারা বছর পরিষ্কার করেও উপকার পাওয়া যাবে না।
২০২৪ থেকে ২০২৬ অর্থবছরের বাজেট অনুযায়ী, রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নয়ন ও খাল রক্ষণাবেক্ষণে দুই সিটি করপোরেশন মিলে প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সিটি করপোরেশন বলছে, আগের অনিয়ম কাটিয়ে নতুনভাবে কাজ করা হচ্ছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন বলেন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা পরিষ্কার করার কাজ অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘদিন পরিষ্কার হয়নি, এখন ধীরে ধীরে করা হচ্ছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম বলেন, কেউ অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এতে আমাদের কাজই সহজ হবে।
তবে নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, শুধু প্রকল্প নিলেই হবে না, কার্যকর পরিকল্পনা ও সমন্বয় দরকার। নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, শত শত কোটি টাকা খরচ হলেও ড্রেনেজ নেটওয়ার্ক ঠিকভাবে গড়ে তোলা ও ব্যবস্থাপনা করা হচ্ছে না। ফলে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না। নতুন প্রকল্প নেয়ার চেয়ে আগের অনিয়ম ও দুর্নীতির জন্য দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি।
সরকারি বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত দুই অর্থবছরে জলাবদ্ধতা নিরসনে ২ থেকে ২.৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হলেও বাস্তবে এর সুফল খুব একটা দেখা যায়নি। এখনো সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু বা কোমর সমান পানি জমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব প্রকল্পে জবাবদিহিতা নিশ্চিত না করা হলে রাজধানীর জলাবদ্ধতার দীর্ঘদিনের সমস্যা কখনোই সমাধান হবে না।


