বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই শিক্ষাকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিক্ষাকে আনন্দময় করার পাশাপাশি খেলাধুলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনায় ছিল ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব, বাধ্যতামূলক তৃতীয় শিক্ষা, সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা এবং বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস ও জুতা দেয়া। এরই অংশ হিসেবে শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের কাজ শুরু হয়েছে।
আগামী শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ শ্রেণিতে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও সাতটি খেলা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে চালু হচ্ছে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বই। পাশাপাশি চলতি মাস থেকেই প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে স্কুল ইউনিফর্ম বিতরণ শুরু হচ্ছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন বছর কিংবা চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে নির্বাচনী ইশতেহারের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ শুরু করেছে জানিয়ে শিক্ষা গবেষকরা বলছেন, শিক্ষাক্রমসহ বিভিন্ন উদ্যোগ সফল করতে যথাযথ প্রস্তুতি নিয়ে এগোতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ বলেন, ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করা এবং বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তা ধারণ করার সুযোগ তৈরি করা ইতিবাচক উদ্যোগ।
তবে এই সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংগঠনগুলো নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়েছে। আগামীতে এ ধরনের সংকট কাটাতে সরকার, বিরোধীদলসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক মজিবুর রহমান বলেন, উপাচার্য ও প্রিন্সিপালদের স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে; কোনো শিক্ষার্থী যে দলই করুক, তাতে সমস্যা নেই। তবে সে বৈধ শিক্ষার্থী কি না এবং অন্যের ক্ষতি করছে কি না, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
গবেষকরা বলছেন, শিক্ষার টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে একটি শিক্ষা কমিশন গঠন করা প্রয়োজন।

