সংগঠন হচ্ছে সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়ার অন্যতম প্রাণ। সুশৃঙ্খল সমাজ বিনির্মাণে সংগঠনের সুনির্দিষ্ট কর্মদক্ষতা সমাজকে করে প্রাণচাঞ্চল্য। বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে বর্তমান অবধি সংগঠনের ভূমিকা অনস্বীকার্য। শিক্ষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চা আর ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় প্রথমে আসে কোনো না কোনো সংগঠনের কথা। তেমনি ক্ষুদে নবদ্বীপ খ্যাত আজকের বিয়ানীবাজারের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষায় সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চার অগ্রপথিক এক সংগঠন স্পর্শ সোস্যাল মিডিয়া।
২০১৩ খ্রিস্টাব্দের ৭ ডিসেম্বর তিন বন্ধু (এম সাইফুর রহমান সাইফ, মোমেন আহমদ ও পার্থ পাল দিপক) এর হাত ধরে একটি ভিন্নধর্মী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের জন্ম। যাত্রা শুরু পর থেকেই সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কাজ করতে সংগঠনটি বদ্ধপরিকর।

চলো বদলে যাই, বদলে দেই এই দেশটাকে- এই স্লোগানকে সামনে রেখে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজসেবা এই তিনটি প্রতিপাদ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি। ২০১৩ খ্রিস্টাব্দে যাত্রা শুরু হওয়া এই সংগঠনের বয়স এখন ১০ বছর।
স্পর্শ সোস্যাল মিডিয়া শুধু বিয়ানীবাজার উপজেলাব্যাপী এর কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নয়। উপজেলার বেশ কিছু ইউনিয়নে রয়েছে এর কমিটি। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক কমিটি অনুমোদনের মাধ্যমে সংগঠনের প্রবাসীদের সদস্যদের নিয়ে একটি ফ্লাটফর্ম তৈরি হয়েছে।
শিক্ষাখাতে সংগঠনটি একটি শিক্ষিত সংগঠনের পরিচয় বহন করছে। সুশিক্ষায় জাতির মেরুদণ্ড আর কৃতি শিক্ষার্থীরা একটি জাতির উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। তাদেরকে নৈতিক ও মানবিক আদর্শ গঠনের লক্ষ্যে ও শিক্ষাক্ষেত্রে উৎসাহ প্রদানের লক্ষ্যে দেশবরেণ্য গুণী ও শিক্ষাবিদদের নিয়ে সংবর্ধনার আয়োজন করে আসছে।

সংগঠনটি কাজ করছে অসহায় ও পথশিশুদেরকে নিয়েও। অসহায়-ছিন্নমূল শিক্ষা কার্যক্রম-এর মাধ্যমে তাদেরকে বিনামূল্যে পাঠদান ও খাতা-কলম বিতরণ করে আসছে।
শিক্ষার মতো তেমনি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে জড়িত সংগঠনটি। বিভিন্ন জাতীয় দিবস উদযাপন, বাঙালির বর্ষবরণ পালন এবং কুসংস্কার বিরোধী নাটক মঞ্চায়ন করে আসছে।
সমাজের উন্নয়নে স্পর্শ সোস্যাল মিডিয়া অসহায় দুস্তদের মাঝে অর্থ ও ত্রাণ বিতরণ রেখেছে সবসময় অব্যাহত। মুক্তিযোদ্ধা ও গুণিজনকে করছে সংবর্ধিত। এর সাথে স্বেচ্ছায় রক্তদান ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচি পালন এবং ইফতার মাহফিলের আয়োজন রয়েছে।
শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সমাজসেবার পাশাপাশি রেখেছে সংগঠনের সদস্যদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা। বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও ক্রিকেট প্রিমিয়ার লিগের আয়োজন।
সংগঠনের উপদেষ্টা, আজীবন সদস্য ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাধ্যমে আসছে সংগঠনের অর্থায়ন আর সমাজ বিনির্মাণে অংশ নিচ্ছে সংগঠনটি। ইতোমধ্যে ১০ বছরে পা রেখেছে স্পর্শ সোস্যাল মিডিয়া। ১০ বছর পূর্তিতে সংগঠনের সদস্যরা উৎফুল্ল প্রকাশ করেন। তাদের বিশ্বাস বদলাতে পারবে তারা এই সমাজ ও দেশকে। এজন্য তাদের সকলের স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা প্রয়োজন।

