Collected from: tsports.com
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় তুলেছেন হ্যারি কেইন। দলের এই তারকা স্ট্রাইকারের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ সতীর্থ অ্যান্থনি গর্ডন। এই উইঙ্গারের মতে, বর্তমানে কেইন এমন এক পর্যায়ে খেলছেন, যার তুলনা করা যায় লিওনেল মেসির সঙ্গে।
বুধবার রাতে ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই ব্রায়ান সিপেঙ্গার গোলে পিছিয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। এরপর একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও গোলের দেখা পাচ্ছিল না থ্রি লায়ন্সরা। ৭৫ মিনিটে হেডে সমতা ফেরান কেইন। ম্যাচ শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে দুর্দান্ত এক গোলে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন ইংলিশ অধিনায়ক।
এর আগে পানামার বিপক্ষেও গোল করেছিলেন কেইন। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলের সঙ্গে ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে আরও দুটি গোল করে এবারের বিশ্বকাপে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচে। গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এখন লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপের চেয়ে মাত্র এক গোল পিছিয়ে তিনি।
কেইন সম্পর্কে গর্ডন বলেন, ‘প্রতিদিন তাঁর সঙ্গে থাকা দারুণ ব্যাপার। কারণ ফুটবল বিশ্বের একেবারে চূড়ায় থাকা একজন বিশ্বমানের খেলোয়াড়কে খুব কাছ থেকে দেখা অন্যরকম ব্যাপার। মেসি ছাড়া ফুটবল ইতিহাসে আর কোনো খেলোয়াড় বোধহয় এমন অবিশ্বাস্য ফর্মে একটা মৌসুম কাটাননি। আর মেসি তো সর্বকালের সেরা ফুটবলার। এ থেকেই বোঝা যায় কেইন এখন কতটা উঁচুমাপের ফুটবল খেলছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমন একজনের পাশে থাকলে তাঁর অভ্যাসগুলো নিজের মধ্যে নেওয়ার একটা ইচ্ছে জাগে। তিনি কীভাবে কী করছেন তা খেয়াল করলেই বোঝা যায় এই সাফল্য কোনো কাকতালীয় বিষয় নয়। প্রতিদিনের কঠোর পরিশ্রম এবং ধারাবাহিকতাই তাঁকে এখানে এনেছে। অনুশীলনের প্রতিটি ফিনিশিং ড্রিল তিনি ভীষণ একাগ্রতা ও গুরুত্বের সাথে করেন। কখনো এতটুকু ঢিলেমি দেন না। আমাদের সবার জন্য তিনি এক মস্ত বড় অনুপ্রেরণা।’
কেইনের জয়সূচক গোলটি নিয়ে গর্ডন বলেন, ‘বলটায় শট নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই জানতাম এটা গোল হতে যাচ্ছে। শট নেওয়ার পর পরই আমি উদযাপন শুরু করে দিয়েছিলাম। এই স্তরের যেকোনো খেলোয়াড়ই হয়তো একটা ভালো গোল করতে পারেন বা বল জালে জড়িয়ে দিতে পারেন, কিন্তু কেইনের বিশেষত্ব হলো তাঁর ধারাবাহিকতা। অনুশীলনে কিংবা ম্যাচে—প্রতিদিনই তিনি অবিশ্বাস্য ফর্মে থাকেন। তাঁর খেলার মান সত্যি দারুণ।’
ম্যাচের এক পর্যায়ে ইংল্যান্ডের হতাশা বাড়লেও জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন বলে জানান গর্ডন, ‘আমি কখনো ভাবিনি তারা আমাদের হারাবে। জানতাম আমরা জিতব। কারণ মাঠে থাকা প্রতিটি খেলোয়াড়ের ওপর আমার আস্থা আছে। আমরা অনুশীলনে যেভাবে কাজ করি, ৯০ মিনিটের খেলায় আমাদের হারানো যেকোনো দলের জন্যই খুব কঠিন হবে। কারণ আমরা মাঠে আমাদের সর্বোচ্চটা ঢেলে দিই। আর এরপরও যদি কেউ আমাদের হারিয়ে দেয়, তবে বলতে হবে তারা সত্যিই জয়ের যোগ্য ছিল।’
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক মেক্সিকো। সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায় মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়ামে (আসতেকা) হবে কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার ম্যাচটি।

