Collected from: tsports.com
আগে কখনও গ্রুপ স্টেজ পার হতে না পারা আইভরি কোস্ট এবার শেষ ৩২-এ নাম লিখিয়েই ইতিহাস রচনা করে। এই রাউন্ডে উঠে নরওয়েও ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরাটা রাঙিয়ে চলেছে। প্রাপ্তির খাতায় এবার যোগ হলো আরও একটি অধ্যায়। আইভরি কোস্টকে কাঁদিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় এখন নরওয়ে।
সর্বশেষ ১৯৯৮ বিশ্বকাপে খেলে সেবার শেষ ষোলো পর্যন্ত উঠেছিল নরওয়ে। বিশ্বকাপেই যা তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য। বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ডালাস স্টেডিয়ামে শেষ ৩২-এর ম্যাচে আইভরি কোস্টকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে নরওয়ে।
৩৯ মিনিটে নরওয়ের আন্তোনিও নুসার গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ৭৪ মিনিটে আইভরি কোস্টকে সমতায় ফেরান আমাদ দিওলো। আর নির্ধারিত সময়ের চার মিনিট আগে গোল করে দলকে জেতান আর্লিং হলান্ড। আসরে হলান্ডের মোট গোল হলো পাঁচটি। তাঁর ওপর আছেন কেবল লিওনেল মেসি (৬ গোল)।
এই জয়ের ফলে শেষ ষোলোয় এখন ব্রাজিলকে মোকাবিলা করবে নরওয়ে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই হবে আগামী রোববার রাতে, বাংলাদেশ সময় ২টায়।
বলা হচ্ছিল নরওয়ে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে দারুণ উপভোগ করছে। সেটি অন্তত ম্যাচ শেষে তাদের চিরচেনা উদযাপন দেখেও বোঝা গেছে। স্টেডিয়ামে আগত নিজ দেশের সমর্থকদের সঙ্গে ওডেগার্ড-হলান্ডরা আরও একবার মেতে উঠলেন সেই বিখ্যাত ‘ভাইকিংস’ উদযাপনে। ডালাস স্টেডিয়ামেও এর ব্যতিক্রম হয়নি।
এদিন, ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই বক্সে হলান্ডের হেড, তবে প্রতিহত হয় আইভরি কোস্টের রক্ষণে। শুরুতে নরওয়ে বেশ কয়েকটি আক্রমণ শানালেও খানিক পর চিত্রটা বদলে যায়, ডানপ্রান্ত ধরে টানা আঘাত হানার চেষ্টা চালায় আইভরি কোস্ট।
২২ মিনিটে আইভরি কোস্টের লেফট-ব্যাক কোনান ভালো সুযোগ তৈরি করেছিলেন। কিন্তু তাঁর শটটি পোস্টের পাশ দিয়ে গিয়ে সাইড নেটে লাগে।
হাইড্রেশন বেক থেকে ফিরে আবারও আইভরিয়ানদের সুযোগ মিস। বা দিক থেকে পেডারসেনকে কাটিয়ে বক্সে ক্রস দেন ইয়ান দিওমান্দে। পেপে পেছন থেকে দ্রুত এগিয়ে এসে ডান পায়ের আলতো টোকায় গোলের দিকে বল বাড়ান। তবে প্রতিপক্ষ গোলকিপার কর্নার করে দেন।
কিছুটা ধারার বিপরীতে গিয়েই যেন ৩৯ মিনিটে লিড নেয় নরওয়ে। বক্সের সামনে থেকে বাম দিকে পাস বাড়ান ওডেগার্ড। কয়েক কদম সামনে এগিয়ে বক্সে ঢুকে আন্তোনিও নুসার শট, টপ কর্নার দিয়ে বল খুঁজে নেয় জাল। আইভরি কোস্টের গোলকিপার লাফিয়ে চেষ্টা করেও বলের নাগাল পাননি।
তিন মিনিট পর লিড দ্বিগুণ করার সুযোগ আসে নরওয়ের সামনে। সরলথের হেডে বল যায় গোলমুখের সামনে থাকা হলান্ডের কাছে, কিছুটা উচু থেকেই শট নেন হলান্ড। কিন্তু তাঁর দুর্বল শট এমমানুয়েল আগবাদুরের পায়ে লেগে কর্নার হয়ে যায়।
৫৬ মিনিটে নরওয়ের জোড়া সেভ। প্রথমে দুয়ের দূরপাল্লার শট প্রতিহত হয় তোরবিয়র্ন হেগগে, ফিরতি শটে পেপেকে আশাহত করেন গোলকিপার নাইল্যান্ড। ১০ মিনিট পর গোললাইন সেভ করে আইভরি কোস্ট। ব্যবধান ২-০ করতে না পারার আক্ষেপে পুড়েন সরলথ। কারণ ওডেগার্ডের কর্নারের পর আতলেতিকো মাদ্রিদের উইঙ্গার হেড নিয়েছিলেন, কিন্তু আমাদ দিওলো ক্লিয়ার করে দেন গোললাইন থেকে।
ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে আইভরি কোস্ট। ৭৪ মিনিটে প্রায় একক প্রচেষ্টায় দলকে সমতায় ফেরান আমাদ দিওলো। ডান দিকের কর্নারের কাছে পেপের কাছ থেকে বল পেয়ে নরওয়ের কয়েকজনকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের এই রাইট উইঙ্গার, এরপর বা পায়ের জোরাল শটে নরওয়ের গোলকিপারের মাথার উপর দিয়ে জাল কাঁপান। ১-১ সমতায় ফেরে আইভরি কোস্ট।
৮৬ মিনিটে আর্লিং হলান্ডের গোলে ম্যাচে দ্বিতীয় এবং শেষবার লিড নেয় নরওয়ে। ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢোকেন প্যাট্রিক বার্গ, নরওয়ের মিডফিল্ডারকে এগিয়ে আসতে দেখেই কি না পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন আইভরি কোস্টের গোলকিপার। কিন্তু বার্গ গোলে শট না নিয়ে ক্রস দেন দূরের পোস্টের সামনে থাকা হলান্ডকে। ম্যানসিটির এই স্ট্রাইকার একদম অনায়েসে ফাকা পোস্টে আলতো টোকায় বল ঠেলে দেন।
পরের মিনিটে দলের লিড এবং নিজের গোলসংখ্যা বাড়ানো সুযোগ আসে হলান্ডের সামনে। কিন্তু বক্সে বিপদজনক জায়গায় বল পেয়েও শট নিতে পারেননি তিনি। যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে দিওলোর ফ্রি কিক শট মনে হচ্ছিল টপ কর্নার দিয়ে জাল খুঁজে নেবে, তবে শেষ মুহূর্তে লাফিয়ে উঠে কর্নার করে দেন নরওয়ের গোলকিপার। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে।

