Collected from: somoynews.tv
কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বানানোর মধ্য দিয়ে ফুটবল ক্যারিয়ারকে পূর্ণতা দিয়েছেন লিওনেল মেসি। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা ও মেক্সিকোতে ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপ সম্ভবত মেসির শেষ বিশ্বকাপ। টুর্নামেন্ট চলাকালীন এই আর্জেন্টাইন মহাতারকার বয়স ৩৯ বছর পূর্ণ হবে। এখনও দুর্দান্ত ছন্দে থাকা মেসির সামনে সুযোগ রয়েছে একাধিক ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়ে টুর্নামেন্টটি স্মরণীয় করে রাখার।
প্রথমত, উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে অংশ নিলে সেটি হবে মেসির খেলা ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। এর মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের একজন হয়ে যাবেন। তবে এই রেকর্ড তাকে ভাগাভাগি করতে হবে তার আর্চ রাইভাল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো এবং মেক্সিকোর কিংবদন্তি গোলরক্ষক গুইলের্মো ওচোয়ার সঙ্গে। তিনজনেরই হবে ছয়টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের কীর্তি। যদিও ওচোয়া ২০০৬ ও ২০১০ বিশ্বকাপে মাঠে নামেননি।
বর্তমানে পাঁচটি বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া কিংবদন্তিদের তালিকায় তাদের তিনজনের সঙ্গী হিসেবে আছেন লোথার ম্যাথাউস, জিয়ানলুইজি বুফন, রাফায়েল মার্কুয়েজ, আন্দ্রেস গুয়ারদাদো এবং আন্তোনিও কারবাহাল।
দ্বিতীয়ত, মেসির সামনে রয়েছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার সুযোগ। বর্তমানে এই রেকর্ডটি জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার, যার গোল সংখ্যা ১৬। তার পেছনে আছেন রোনালদো নাজারিও (১৫) এবং গার্ড মুলার (১৪)। ১৩ গোল নিয়ে এরপরেই আছেন মেসি, যৌথভাবে চতুর্থ স্থান ভাগাভাগি করছেন ফ্রান্সের জাস্ট ফন্তেইনের সঙ্গে। ২০০৬ সালে ১টি, ২০১৪ সালে ৪টি, ২০১৮ সালে ১টি এবং ২০২২ সালে বাকি গোলগুলো করেছিলেন মেসি। তবে এই রেকর্ডের পথে এই আর্জেন্টাইনের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী কিলিয়ান এমবাপ্পে, যার গোল ১২টি এবং বয়স মাত্র ২৭।
তৃতীয়ত, বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টদাতা হওয়ার সুযোগও রয়েছে মেসির সামনে। বর্তমানে তার অ্যাসিস্ট ৮টি। এই তালিকায় শীর্ষে আছেন পেলে, যার অ্যাসিস্ট ১০টি। ফলে এই রেকর্ড ভাঙা মেসির জন্য অসম্ভব নয়। তবে ফিফার অফিসিয়াল হিসেব অনুযায়ী বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ অ্যাসিস্টের মালিক মেসিই। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের আগে অ্যাসিস্ট হিসেবে না ধরায় পেলের রেকর্ড হিসেবে ধরা হয় না। এই রেকর্ডে মেসির সঙ্গী স্বদেশি দিয়েগো ম্যারাডোনা।
এছাড়া মেসি এখন পর্যন্ত দুটি বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলেছেন; ২০১৪ ও ২০২২ সালে। যদি ২০২৬ সালেও তিনি ফাইনালে ওঠেন, তাহলে যৌথভাবে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি ফাইনাল খেলার রেকর্ড গড়বেন। একমাত্র ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের তিনটি ফাইনাল খেলার রেকর্ড ব্রাজিলের কিংবদন্তি রাইটব্যাক কাফুর। একই সুযোগ আছে এমবাপ্পেরও। ২০১৮ ও ২০২২ এর ফাইনাল খেলেছেন এই ফরাসি।
আরেকটি রেকর্ড ইতোমধ্যেই মেসির দখলে রয়েছে। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড। এখন পর্যন্ত তিনি খেলেছেন ২৬টি ম্যাচ। তার পেছনে আছেন ম্যাথাউস (২৫), ক্লোসা (২৪) এবং পাওলো মালদিনি (২৩)। নতুন ফরম্যাটে একটি দল সর্বোচ্চ আটটি ম্যাচ খেলতে পারবে, ফলে মেসির সামনে নিজের রেকর্ড আরও অনেক দূর নিয়ে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
একই সঙ্গে বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি মিনিট মাঠে থাকার রেকর্ডও আরও সমৃদ্ধ করতে পারেন তিনি। বর্তমানে বিশ্বকাপে তার খেলা মোট সময় ২,৩০০ মিনিট। ২০২৬ বিশ্বকাপ তাই মেসির জন্য শুধু শিরোপা রক্ষার মঞ্চ নয়, বরং ইতিহাসের পাতায় আরও কয়েকটি অনন্য রেকর্ড যোগ করারও সুযোগ।

