Collected from: tsports.com
ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে সোমবার মেক্সিকোর বিপক্ষে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টায়। এই মাঠে সবশেষ স্মৃতিটা ইংল্যান্ডের জন্য মোটেও সুখকর নয়। ম্যাচের আগে ইংলিশ কোচ টমাস টুখেলের সংবাদ সম্মেলনে ঘুরেফিরে এসেছে সেই প্রসঙ্গ।
১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আজতেকায় ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে শিরোপার দিকে এগিয়ে গিয়েছিল আর্জেন্টিনা। বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের মনে আজও দাগ কেটে আছে সেই ম্যাচ। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত দুটি গোল করেছিলেন ডিয়েগো মারাদোনা। একটি ‘হ্যান্ড অব গড’ (ঈশ্বরের হাত) এবং অন্যটি ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ (শতাব্দীর সেরা গোল)।
প্রথম গোলটিতে মারাদোনা এগিয়ে আসা ইংলিশ গোলকিপার পিটার শিলটনকে ফাঁকি দিয়ে বাম হাত দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন। এর মাত্র কয়েক মিনিট পর, নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একক নৈপুণ্যে ইংল্যান্ডের অর্ধেক দলকে কাটিয়ে গোল করেন এই আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। ২০০১ সালে ফুটবলপ্রেমীদের ভোটে এটি শতাব্দীর সেরা গোল নির্বাচিত হয়।
হৃদয়ভাঙা সেই ম্যাচের পেরিয়ে গেছে দীর্ঘ ৪০ বছর। আজতেকার নাম বদলে হয়েছে মেক্সিকো সিটি স্টেডিয়াম। তবে ক্ষত যে এখনো রয়ে গেছে সেটি প্রকাশ পেল টুখেলের সংবাদ সম্মেলনে। ১৯৮৬ বিশ্বকাপ নিয়ে টুখেল বলেন, ‘সবাই সেই (আর্জেন্টিনার বিপক্ষে) ম্যাচটির কথা মনে রেখেছে। গোল দুটি ছিল আইকনিক— হ্যাঁ, এই স্টেডিয়ামেই (আজতেকা) দুটি ঐতিহাসিক গোল হয়েছিল। আর্জেন্টিনার ক্ষত এখনও টাটকা, সেই স্মৃতিটা এখনও আমাদের পোড়ায়।’
আগের ক্ষত থাকলেও এখন প্রেক্ষাপট পুরোপুরি বদলে গেছে। এবার ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ আর্জেন্টিনা নয়, বরং খোদ স্বাগতিক দেশ মেক্সিকো। ইংল্যান্ডের কোচ হিসেবে নিজের প্রথম বিশ্বকাপ মিশন সামলানো টুখেল বলেন, ‘স্টেডিয়ামটা এক হলেও এবারের প্রতিপক্ষ তো এক নয়। আর প্রতিপক্ষ এক হলেও প্রতিশোধের মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামার কোনো মানে হয় না। আমরা এখানে নতুন একটি অধ্যায় লিখতে এসেছি।’
ম্যাচে মেক্সিকো যেমন ঘরের মাঠের দর্শকদের চিৎকার ও সমর্থন পাবে, তেমনি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭,২০০ ফুটেরও (২,২০০ মিটার) বেশি উঁচুতে অবস্থিত আজতেকার ভৌগোলিক উচ্চতার সুবিধাও নিতে চাইবে তারা।
টুখেল বলেন, ‘মেক্সিকোর বিপক্ষে তাদের মাটিতে সেরা পারফরম্যান্স দেখাতে হলে প্রচুর সাহসের প্রয়োজন হবে। তবে আমরা তৈরি; আমাদের দলটা বেশ সাহসী। আমাদের দলে যেমন অভিজ্ঞ ফুটবলার রয়েছে, তেমনি এমন কিছু তরুণ প্রতিভাও আছে যারা যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।’

