Collected from: tsports.com
মূল ম্যাচে গোল করে জার্মানিকে উদ্ধার করেছিলেন কাই হাভার্টজ। কিন্তু টাইব্রেকারে তিনিই ডোবালেন দলকে। প্রথম শটই মিস করলেন তারকা ফরোয়ার্ড। পরে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পেলেও শেষ পর্যন্ত আর পারল না জার্মানি। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের চমকে দিয়ে টাইব্রেকারে জিতে শেষ ষোলোতে পৌঁছে গেল প্যারাগুয়ে।
বোস্টন স্টেডিয়ামে মূল ম্যাচ ছিল ১-১ গোলে ড্র। পরে ছয় শটের টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে জিতেছে প্যারাগুয়ে। বিশ্বকাপে এই প্রথম টাইব্রেকারে হারল জার্মানি। এর আগের চারবারই তারা ছিল সফল দল। অন্যদিকে ২০১০ সালের পর আবার টাইব্রেকার জিতল প্যারাগুয়ে।
শেষ ষোলোর ম্যাচে ফ্রান্স ও সুইডেনের মধ্যে লড়াইয়ের জয়ী দলের বিপক্ষে খেলবে প্যারাগুয়ে।
টাইব্রেকারে গোলকিপারের বাম দিকে প্রথম শট নেন কাই হাভার্টজ। দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঝাঁপিয়ে সেটি ঠেকিয়ে দেন অরল্যান্ডো গিল। পরে মাউরিসিও মাগালায়েসও বাম দিকে নেন শট। তবে ম্যানুয়েল নয়্যার ঠেকাতে পারেননি।
দ্বিতীয় শটে হাভার্টজের ভুল করেননি জশুয়া কিমিখ। তিনি শট নেন ডান দিকে। তবে আগেই বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে মিস করেন গিল। পরে বাম দিকে শট নিয়ে নয়্যারকে বোকা বানান গুস্তাভো গোমেস।
তৃতীয় শট নিতে এসে ডান দিকে মারেন জামাল মুসিয়ালা। সেদিকেই ঝাঁপান গিল। তবে অল্পের জন্য নাগাল পাননি ২৬ বছর বয়সী কিপার। পরে শট নিতে এসে চমৎকার নিচু শটে ডান দিকে মেরে নয়্যারকে পরাস্ত করেন মাতিয়াস গালারজা।
চতুর্থ শট আবার বাম দিকে নেন নিক ভোল্টেমেড। আরও একবার সঠিক ঝাঁপ দিয়ে ঠেকিয়ে দেন গিল। ফলে প্যারাগুয়ের সামনে সুযোগ আসে জিতে যাওয়ার। কিন্তু আন্তোনিও সানাব্রিয়া ডান পাশ দিয়ে বাইরে মারলে বাড়ে তাদের অপেক্ষা।
পঞ্চম শটে কোনো ভুল করেননি নাদিয়েম আমিরি। তিনি লক্ষ্যভেদ করলে বেঁচে থাকে জার্মানির আশা। পরে প্যারাগুয়ের ফাবিয়ান বালবুয়েনা বাম দিকে শট নিলে সেদিকেই ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন নয়্যার। ফলে খেলা গড়ায় ষষ্ঠ শটে।
টাইব্রেকারের ষষ্ঠ শট নিতে এসে বারের অনেক ওপর দিয়ে মারেন জনাথন তাহ। ফলে আবারও সুযোগ আসে প্যারাগুয়ের সামনে। এবার আর ভুল হয়নি হোসে কানালের। তার বাম পাশে নেওয়া জোরাল শটে কিছুই করতে পারেননি নয়্যার।
সব মিলিয়ে ১-১ গোলে অমীমাংসিত ম্যাচের পর টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হেরে বিদায়ঘণ্টা বেজে যায় জার্মানির। আর চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হতাশায় ডুবিয়ে শেষ ষোলোতে পৌঁছে যায় প্যারাগুয়ে।
মূল ম্যাচে প্রথমার্ধে প্যারাগুয়ের হয়ে গোল করে এক ইতিহাসই গড়েন হুলিও এনসিসো। দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে জার্মানির পক্ষে গোল শোধ করেন কাই হাভার্টজ।
পরে অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটের প্রথমার্ধে জালের দেখা পায় জার্মানি। কিন্তু ভিএআর দেখে সেটি বাতিল করে দেন রেফারি। ফলে অমীমাংসিতই থেকে যায় ম্যাচ।
খেলা শুরুর পর প্রথমার্ধের পুরোটা সময় দাপট দেখিয়েই খেলে জার্মানি। প্রথম ৪৫ মিনিটের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ সময় বলের দখল ছিল চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের কাছে। গোলের জন্য তারা করেছে পাঁচটি শট। এর মধ্যে অবশ্য একটির বেশি লক্ষ্যে ছিল না।
বিপরীতে কাউন্টার অ্যাটাকের খোঁজে বসে থাকা প্যারাগুয়ে তিন শটের দুইটিই রাখতে পেরেছে লক্ষ্য বরাবর। এর মধ্যে ৪২ মিনিটের মাথায় পাল্টা আক্রমণে উঠেই জার্মানিকে চমকে দিয়ে ইতিহাসগড়া গোল পেয়ে যায় তারা।
জার্মানির কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে পাল্টা আক্রমণে ওঠে প্যারাগুয়ে। পরে ডি-বক্সের কাছে গিয়ে দারুণ এক ক্রস দেন মাতিয়াস গালারজা। গোলবারের খুব কাছ থেকে লাফিয়ে ওঠা হেডারে বল জালে পাঠান হুলিও এনসিসো।
ফিফা বিশ্বকাপের নকআউটে এটিই প্যারাগুয়ের প্রথম গোল। এর আগে চার বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পাঁচ ম্যাচ খেললেও কোনো গোল দিতে পারেনি তারা।
এগিয়ে থেকে বিরতিতে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দারুণ সুযোগ পায় প্যারাগুয়ে। জশুয়া কিমিখ ভুল পাস দিলে বিপজ্জনক জায়গায় পেয়ে যান এনসিসো। তবে তার লব করে দেওয়া বল দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে জার্মানিতে উদ্ধার করেন ম্যানুয়েল নয়্যার।
এর কিছুক্ষণ পর উল্টো গোল হজম করে বসে প্যারাগুয়ে। ম্যাচের ৫৪ মিনিটে বক্সে হাভার্টজকে লক্ষ্য করে ক্রস দেন ফ্লোরিয়ান ভিয়ের্তস। জার্মান লেফট উইঙ্গার লাফিয়ে উঠে হেডে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন।
চলতি বিশ্বকাপে হাভার্টজের এটি তৃতীয় গোল।
পরে ৭৮ মিনিটে জালের খুব কাছ থেকে আরেকটি হেড করেন হাভার্টজ। তবে এবার বাম দিকে হাত এগিয়ে বল ঠেকিয়ে দেন প্যারাগুয়ল গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল। অন্য প্রান্তে গুস্তাভো কাভালেরো পরীক্ষা নেন জার্মান রক্ষণের। কিন্তু জালের দেখা পাননি।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হওয়ার পর ইনজুরি টাইমের প্রথম মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেড করেন জার্মান মিডফিল্ডার জোনাথন তাহ। তবে গোলকিপার বরাবর হওয়ায় ফায়দা মেলেনি।
পরের মিনিটে ডি বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শট নেন প্যারাগুয়ের ফরোয়ার্ড মিগেল আলমিরন। তবে জার্মান রক্ষণে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে কর্নারে চলে যায় বল। কর্নার থেকে সুবিধা করতে পারেনি প্যারাগুয়ে।
নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার বাঁশি বাজার ঠিক আগে প্যারাগুয়ের রক্ষণে হানা দেয় জার্মানি। কিন্তু তেমন কোনো জোরাল আক্রমণ সাজাতে পারেনি তারা। ফলে অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটে চলে যায় খেলা।
অতিরিক্ত ত্রিশ মিনিটের খেলা শুরু হলে একই রক্ষণাত্মক ঢঙে খেলতে থাকে প্যারাগুয়ে আর বারবার আক্রমণে উঠতে থাকে জার্মানি। ম্যাচের ১০২ মিনিটে সুফল পেয়েও গিয়েছিল জার্মানরা। নাথানিয়েল ব্রাউনের ক্রসে হেডে বল জালে জড়ান জনাথন তাহ।
জয়সূচক গোলের আনন্দে ভাসে জার্মানি। কিন্তু ভিএআর থেকে রেফারির কাছে বার্তা আসে, কর্নারের শুরুতে প্যারাগুয়ে গোলকিপারকে ফাউল করেছেন ওয়াল্ডেমার আন্তন। রিপ্লেতে দেখা যায়, কর্নার কিকের শুরুতে অরল্যান্ডো গিলের সঙ্গে হালকা ধাক্কা লেগেছে আন্তনের।
এই কারণে জার্মানির গোল বাতিল করে দেন রেফারি। যা মেনে নিতে পারেনি জার্মানরা। কড়া প্রতিক্রিয়া দেখানোয় হলুদ কার্ড পান জার্মানির কোচ হুলিয়ান নাগেলসম্যান।
পরে ইনজুরি টাইমের শেষ মিনিটে হেড করেন হাভার্টজ। লাফিয়ে উঠে সে দফায় প্যারাগুয়েকে বাঁচান গোলকিপার অরল্যান্ডো গিল।
অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে কিছু সুযোগ তৈরি করে। কিন্তু কাজের কাজ করতে পারেনি কেউই। তাই টাইব্রেকারের ভাগ্য পরীক্ষায় চলে যায় ম্যাচ। যেখানে শেষ হাসি প্যারাগুয়ের।

