Collected from: somoynews.tv
একটি সরকারি চাকরি। যা হাজারো তরুণের স্বপ্ন। কিন্তু সেই স্বপ্নকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে প্রতারণার সিন্ডিকেট। যারা লুটে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। টাকা দিলেই সরকারি চাকরি নিশ্চিত এমন প্রলোভনে নতুন নতুন ফাঁদ পেতে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে অপরাধী চক্রটি। বিগত ১৫ বছরে এমন চক্রের হাতে জিম্মি অনেক পরিবার।
সময়ের সাথে জালিয়াতির কৌশলে এসেছে বদল। পরীক্ষার আগের দিন প্রশ্নফাঁস থেকে পরীক্ষা কেন্দ্রে প্রক্সি প্রার্থীর ব্যবহার সবই চলে চক্রের ইশারায়। কখনও কখনও অবৈধ ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর জানিয়ে দেয়া হয় পরীক্ষার্থীকে। আধুনিক প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে কীভাবে করা হয় এমন প্রতারণা?
চক্রটি প্রথমে চাকরিপ্রত্যাশী দুর্বল বা ব্যর্থ প্রার্থীদের টার্গেট করে যোগাযোগ স্থাপন করে। চাকরির নিশ্চয়তায় ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত চুক্তি হয়। যা কখনো কখনো ২০ লাখ পর্যন্ত হয়। নেয়া হয় অগ্রিম টাকা।
কখনো যোগ্য একজনকে ভুয়া পরিচয়ে পরীক্ষায় বসানো হয়। কখনও ছবি বা বায়োমেট্রিক জালিয়াতিও করা হয়। এসবেও সুবিধা করতে না পারলে নেয়া হয় আরও ভয়ংকর আশ্রয়। ক্ষুদ্র ব্লুটুথ ডিভাইস কানের ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। আর শরীরের বিভিন্ন অংশে লুকানো থাকে রিসিভার। যার মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তরগুলো খুব সহজেই পৌঁছে দেয়া হয় পরীক্ষার্থীর কানে।
প্রতিবছর হাজারো মেধাবীর স্বপ্ন ভঙ্গ হচ্ছে কিছু অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে। এই সিন্ডিকেট মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে পরীক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছে ইলেকট্রনিক ডিভাইস। ডিভাইসগুলো এমনভাবে শরীরে লুকানো থাকে যা সাধারণ মানুষের বোঝার কোনো উপায় নেই। ডিভাইসগুলোর মাধ্যমে খুব সহজেই পরীক্ষার হলে বসে প্রশ্নের উত্তরগুলো পেয়ে যাচ্ছেন এইসব প্রার্থীরা।
গত শনিবার (২ মে) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সমন্বিত নাবিক ভর্তি পরীক্ষায় কেন্দ্রে অবৈধ ইলেকট্রিক ডিভাইস ব্যবহার ও প্রক্সি পরীক্ষা দেয়ার সময় ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে এবারেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা।
শেরেবাংলা নগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান জানান, কানের ভেতরে ইয়ারফোন থাকে, মোবাইলের সাথে ডিভাইস থাকে, মোবাইলের মধ্যে সিম থাকে। যার মাধ্যমে বাইরে থেকে কথা আদান প্রদান হয় এবং সেখান থেকে তথ্য নিয়ে তারা পরীক্ষা দেয়। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদেরকে রিমান্ডে নেয়া হবে। নিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এই চক্রের সঙ্গে কারা জড়িত আছে।
এমন চক্রের মূলহোতাদের ধরা না গেলে শুধরাবে না সিস্টেম। এমন অভিমত অপরাধ বিশ্লেষকের।
অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এই দেখছি, দেখবো, ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে, তৎপর আছি এই ধরনের শব্দের মধ্যে দিয়ে যাতে তারা আসলে পার পেয়ে যেতে না পারে। যাদেরকে গ্রেফতার করা হলো তাদের বিরুদ্ধে কী শাস্তি নেয়া হচ্ছে, সেই শাস্তি কি আসলে সহনশীল শাস্তি নাকি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিলে তখন এটা অন্যরা এই ধরনের উপায়গুলো অবলম্বনে ভয় পাবে।
প্রযুক্তি দিয়েই ডিজিটাল অপরাধী চক্রের তৎপরতা থামাতে হবে বলেও অভিমত এই বিশ্লেষকের।

