Collected from: সময় মিডিয়া লিমিটেড
বান্দরবান সদর উপজেলার দুর্গম নোয়াপতং খালের ওপর নির্মিত হয়েছে ৮০ মিটারের একটি ব্রিজ। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এ ব্রিজটির কারণে বদলে যাবে এলাকার অন্তত ১২টি গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষের জীবনযাত্রা।
দীর্ঘদিন ধরে নোয়াপতং খাল পারাপার ছিল স্থানীয়দের জন্য বড় একটি দুর্ভোগের কারণ। বর্ষা মৌসুমে খালের পানি বাড়লে নৌকা কিংবা ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করতে হতো এলাকাবাসীকে। এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহনসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো। শুধু তাই নয়, বিগত সময়ে বর্ষায় খাল পারাপার করতে গিয়ে বেশ কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা মৃত্যুবরণ করেছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, নতুন এই ব্রিজ নির্মাণের ফলে এখন সহজ ও নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত হয়েছে। স্থানীয় কৃষকরা সহজেই তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারে নিয়ে যেতে পারবেন। ফলে কৃষি অর্থনীতিতে গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একইসঙ্গে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ হওয়ায় ঝরে পড়া কমবে এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।
স্বাস্থ্যখাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। জরুরি রোগী পরিবহন, গর্ভবতী নারী ও বৃদ্ধদের চিকিৎসাসেবা পেতে আর আগের মতো ঝুঁকি পোহাতে হবে না। এতে সময় ও প্রাণহানির আশঙ্কা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে নোয়াপতং এলাকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঘিরে পর্যটন সম্ভাবনাও বাড়বে।
আরও পড়ুন: বান্দরবান সীমান্তে অস্ত্র ও গুলিসহ মিয়ানমার যুবক আটক
নোয়াপতং এলাকার বাসিন্দা চনুমং মারমা বলেন, ‘এই ব্রিজ শুধু একটি স্থাপনা নয়; এটি নোয়াপতং ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ও প্রত্যাশার প্রতিফলন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে এই ব্রিজ ভবিষ্যতে এলাকার টেকসই উন্নয়নের মাইলফলক হয়ে উঠবে এমনটাই প্রত্যাশা সবার।’
ব্রিজটির মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদারসহ স্থানীয়দের অর্থনৈতিক পরিবর্তন ঘটবে বলে জানান বান্দরবান পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু বিন মোহাম্মদ ইয়াছির আরাফাত। তিনি বলেন, ‘ব্রিজ না থাকার কারণে বহু বছর ধরে এ এলাকার মানুষ নৌকা কিংবা পায়ে হেঁটে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল পারাপার হয়ে আসছিলেন। এ ব্রিজটি হওয়ায় এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট লাঘবের পাশাপাশি জীবনমানের উন্নয়ন হবে।’
উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের অর্থায়নে সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮০ মিটার দীর্ঘ ব্রিজটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করছে মেসার্স মারমা এন্টারপ্রাইজ। দ্রুত অ্যাপ্রোচ সড়কের কাজ শেষ করে শিগগিরই ব্রিজটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

