Collected from: সময় মিডিয়া লিমিটেড
রাজধানীর গুলশানে মাথায় রড পড়ে এক পথচারীর মৃত্যুর ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছে কনকর্ড কমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড। সেইসঙ্গে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রতিষ্ঠানটির ওপর এই দুর্ঘটনার দায় চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে কনকর্ডের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা এম. মাহফুজুর রহমানের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শোকের পাশাশি এই অভিযোগ জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, গত ২২ জানুয়ারি দুপুর আড়াইটার দিকে গুলশান এলাকার ১৪০ নম্বর রোডে, প্লট নম্বর-২২, ক্রিস্টাল প্লেসের সামনের ফুটপাতে একটি দুঃখজনক ও মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একজন পথচারীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আমরা গভীর শোক প্রকাশ করছি এবং নিহত ব্যক্তির পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।
ঘটনার সময় ক্রিস্টাল প্লেস ভবনে সামনের অংশে ফুটপাত বরাবর ঝুলন্ত প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গ্লাস ক্লিনিংয়ের কাজ চলছিল, যা অত্যন্ত অনিরাপদভাবে পরিচালিত হচ্ছিল। সেই সময় ওপর থেকে একটি ছোট রডের টুকরো পড়ে একজন পথচারীর মাথায় আঘাত করে। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলেও চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পরপরই সংশ্লিষ্ট গ্লাস ক্লিনিং কর্মীদের তড়িঘড়ি করে প্ল্যাটফর্ম সরিয়ে নিতে দেখা যায়। একই সঙ্গে ক্রিস্টাল প্লেস ভবনের ছাদে একাধিক স্টিল রড পড়ে থাকতে দেখা যায়, যেখান থেকে কোনো একটি রড ঢিলা হয়ে নিচে পড়ে। এ সংক্রান্ত ভিডিও ও ভিজুয়াল প্রমাণ সংরক্ষিত রয়েছে।
আমাদের এমবিআর স্কাই লাইন প্রকল্পটি রাস্তার বিপরীত পাশে অবস্থিত। দুর্ঘটনাস্থল ও উক্ত ভবনের মধ্যে আনুমানিক ৪০ থেকে ৫০ ফিট প্রশস্ত রাস্তা রয়েছে অতএব আমরা অত্যন্ত দৃঢ় ও স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, দুর্ঘটনায় জড়িত রডটির উৎস এমবিআর স্কাইলাইন প্রকল্প নয়। উদ্ধারকৃত রডটি অত্যন্ত পুরোনো, মরিচাধরা ও আংশিক রঙ করা, যা আমাদের প্রকল্পে ব্যবহৃত কোনো রডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তদুপরি, এমবিআর স্কাইলাইন প্রকল্পের উত্তর দিক প্রথম তলা থেকে ২৫তম তলা পর্যন্ত সম্পূর্ণ গ্লাস ক্ল্যাডিং দ্বারা আবৃত এবং ওই পাশে কোনো রড-সংক্রান্ত কাজ চলমান ছিল না।
এছাড়া, আমাদের ভবনের উত্তর পাশের ফুটপাত টিনশেড দ্বারা সুরক্ষিত এবং রোড নম্বর ১৪০ সংলগ্ন পুরো এলাকা নাইলন সেফটি নেট দ্বারা আচ্ছাদিত। ফলে আমাদের ভবন থেকে কোনো বস্তু নিচে পড়ে যাওয়ার বাস্তব কোনো সম্ভাবনা নেই।
ঘটনার পর গুলশান থানার পুলিশ ঘটনাস্থল ও আমাদের নির্মাণ এলাকা পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। আমরা তদন্তকারী সংস্থাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছি এবং প্রকৃত সত্য উদঘাটনে আগ্রহী।
দুঃখজনকভাবে আমরা লক্ষ্য করছি একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কনকর্ড গ্রুপের ওপর এই দুর্ঘটনার দায় চাপানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা দায়িত্বশীল সাংবাদিকদের প্রতি অনুরোধ জানাই-তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কোনো বিভ্রান্তিকর বা একপেশে তথ্য প্রচার না করার জন্য।

