Collected from: tsports.com
আলজেরিয়ার বিপক্ষে সহজ জয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করা আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্বে দ্বিতীয় প্রতিপক্ষ ইউরোপের দেশ অস্ট্রিয়া। সোমবার ডালাসের স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় শুরু হবে গ্রুপ সেরার এই লড়াই। ম্যাচটি শুরুর আগে প্রশ্ন উঠেছে, আলজেরিয়ানদের বিপক্ষে যেভাবে সহজ জয় বাগানো আলবিসেলেস্তেরা ‘ডাস টিম’র বিপক্ষেও তেমনটা ঘটিয়ে দেখাবে?
সহজ উত্তর—না। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২১ নম্বরে থাকা অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হতে পারে আর্জেন্টিনাকে। বিশেষ করে কোচ রালফ রাংনিকের অধীনে বিশ্বকাপের স্বপ্নসারথীরা এখন ইউরোপের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফিজিক্যাল টিম। হাই-ইনটেনসিটির সঙ্গে ট্রানজিশন ফুটবলে বেশ পটু অস্ট্রিয়া। বিপরীতে আর্জেন্টিনা এমন ফুটবলে খুব একটা অভ্যস্ত নয়। শৈল্পিক, সুশৃঙ্খল এবং মোহনীয় ড্রিবলিং নির্ভর দল লাতিন আমেরিকার ফুটবলযোদ্ধারা। তার ওপর আকাশি-সাদা খেলোয়াড়দের তুলনায় উচ্চতায় ঢের এগিয়ে অস্ট্রিয়া। সে হিসেবে বুর্জেদের হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই!
‘গেগেনপ্রেসিং’ এর জনক কোচ রালফ রাংনিক কোথাকার জল কোথায় নিতে পারেন, তা অনেকেরই জানা। জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগ এবং হফেনহেইমকে তৃণমূল থেকে তুলে এনে ইউরোপের বড় শক্তিতে রূপান্তর করেছিলেন তিনি। তার তত্ত্ব ব্যবহার করে বিশেষ করে হফেনহেইমকে তৃতীয় বিভাগ থেকে সরাসরি বুন্দেসলিগায় তুলে আনেন এবং লাইপজিগকেও জার্মানির শীর্ষ ক্লাবগুলোর কাতারে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি। আর অস্ট্রিয়াকে গতি ও ফিজিক্যাল স্ট্যাবিলিটির সঙ্গে দিয়েছেন এক ‘যোদ্ধা’ রূপ।
গেগেনপ্রেসিংকে সঙ্গী বানানো অস্ট্রিয়ার খেলার ধরন হলো—বল হারানোর সাথে সাথে ডিফেন্সে না নেমে প্রেসিংয়ের মাধ্যমে প্রতিপক্ষের উপর চাপ তৈরি করা এবং বল দ্রুত রিকভারি করার কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে আক্রমণভাগে পাস বাড়িয়ে কাউন্টার অ্যাটাকে চলে যাওয়া। এই জায়গাটায় একটু চাপে পড়তে পারে রক্ষণভাগ নিয়ে ‘এখনও স্থায়ী সমাধান না পাওয়া’ আর্জেন্টিনা।
আর্জেন্টিনা তাদের আক্রমণভাগ ও মিডফিল্ড নিয়ে একটা সঠিক ছক পেলেও ডিফেন্স লাইনে লেফট-ব্যাক তাগলিয়াফিকো এবং রাইট-ব্যাক গঞ্জালো মন্তিয়েলের চোট ভাবাচ্ছে। রক্ষণভাগের লেফট-ব্যাকে ফাকুন্দো মেদিনাই খেলবেন, যদিও গতকাল অনুশীলনে স্কালোনি কিছুক্ষণের জন্য নিকোলাস ওতামেন্দিকে এই পজিশনে বাজিয়ে দেখেছেন। বারবার প্রতিপক্ষকে গেগেনপ্রেসিং দিয়ে ভড়কে দেওয়া অস্ট্রিয়া যদি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এমন কিছু করে দেখায়, সেক্ষেত্রে অবাক হওয়ার মতো কিছু থাকবে না।
বর্তমানে ইউরোপের দলগুলোর মধ্যে প্রতিপক্ষের ফাইনাল থার্ডে সবচেয়ে বেশি বল রিকভারি করা দল অস্ট্রিয়া। এ ধরনের হাই-প্রেস ফুটবল খেলার জন্য প্রচুর শারীরিক শক্তি ও সামর্থ্যের প্রয়োজন। তথ্য মতে, অস্ট্রিয়ার ফুটবল দল পুরো ৯০ মিনিট জুড়ে গড়ে ম্যাচ প্রতি প্রায় ১১৪ কিলোমিটার পর্যন্ত দৌড়ায়। তাদের শ্বাসরুদ্ধকর ও দমবন্ধ করা প্রেসিং বিশ্বের যেকোনো বড় দলকেও খেই হারিয়ে ফেলতে বাধ্য করে।
আগামীকাল আর্জেন্টিনা-অস্ট্রিয়া ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় দুপুরে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, কালকের তাপমাত্রা ৩৫-৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকবে। তবে অনুভূত তাপমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে ৩৮-৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এই তীব্র গরমে অস্ট্রিয়ার মতো হাই-প্রেসিং দলের বিরুদ্ধে টিকে থাকা আর্জেন্টিনার জন্য শুধু কঠিনই নয় বরং বড় ধরনের মানসিক পরীক্ষাও।
উচ্চতার প্রসঙ্গটিও বাদ যাবে কেন? ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের সেই দীর্ঘদেহী স্ট্রাইকার ওট ভেগহর্স্টের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই? ম্যাচের শেষ মুহূর্তে মাঠে নেমে যিনি নিজের ১৯৭ সেন্টিমিটার উচ্চতা দিয়ে আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছিলেন, ম্যাচ নিয়ে গিয়েছিলেন অতিরিক্ত সময়ে। ২০২৬ বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে লিওনেল স্কালোনির মাথায় ঠিক তেমনই এক ভূত চেপে বসেছে। তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে অস্ট্রিয়ার এমন এক ‘অস্ত্র’ আছে, যা যেকোনো ডিফেন্সের ঘুম উড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তিনি সাশা কালাইদজিচ—অস্ট্রিয়ার ২ মিটার (৬ ফুট ৭ ইঞ্চি) উচ্চতার এক দীর্ঘদেহী ‘দানব’ স্ট্রাইকার!

