Collected from: somoynews.tv
যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তির খসড়া এরইমধ্যে প্রস্তুত হয়েছে। রোববার (১৪ জুন) এটি সই হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে চুক্তির প্রকৃত বিষয়বস্তু নিয়ে এখনও ব্যাপক ধোঁয়াশা রয়েছে। চুক্তির বিষয়বস্তু ছাড়াও, এর বিভিন্ন দিক নিয়েও দুই পক্ষ ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা দিচ্ছে।
ইরানের অবস্থান তুলনামূলকভাবে অস্পষ্ট। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে চালু করা টোল আদায় করবে ইরান। এটি সমঝোতা স্মারকের অংশ বলেও তেহরানের দাবি। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, কোনো শর্ত ছাড়াই অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে।
ইরানের জব্দকৃত অর্থ মুক্ত করার বিষয়টি নিয়েও ধোঁয়াশা রয়েছে। ইরানের দাবি, চুক্তিতে সম্পদ মুক্ত করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত। তবে এটি কি বর্তমান সমঝোতা স্মারকের অংশ, নাকি ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত হওয়া সম্ভাব্য বৃহত্তর চুক্তির অংশ—সেটি পরিষ্কার করা হয়নি।
একইভাবে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েরে মুখপাত্র মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটির প্রত্যাহারের কথাও বলেছেন। কিন্তু এই বিষয়টি আদৌ বর্তমান সমঝোতা স্মারকে অন্তর্ভুক্ত আছে কি না, তা নিয়েও কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।
ফলে সম্ভাব্য চুক্তি সইয়েরর আগমুহূর্তেও অনেক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চুক্তির বিভিন্ন ধারা ও শর্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, দেশ দুটির মধ্যে একটি চুক্তি রোববার সই হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি জানান, চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পরপরই হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলের জন্য খুলে দয়া হবে। ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক উপাদান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেবে এবং তা নিষ্ক্রিয় করে ধ্বংস করবে।
এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, উভয় পক্ষ শান্তি চুক্তির একটি কাঠামোতে সম্মত হয়েছে এবং রোববার ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে চুক্তি স্বাক্ষরের প্রস্তুতি চলছে। এর পর আগামী সপ্তাহে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা খুব বেশি হলেও তা রোববারই হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। তিনি জানান, আগামী দুই একদিনের মধ্যে জেনেভা বা অন্য কোথাও সফরের পরিকল্পনা নেই তাদের।
যদিও মার্কিন গণমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, পাকিস্তান, কাতার, মিশর ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনার অংশ হিসেবে ভার্চুয়াল বৈঠকে এই সমঝোতা চূড়ান্ত হতে পারে।