Collected from: somoynews.tv
যুদ্ধবিরতি হতেই নিজেদের কৃতিত্ব বড় করে দেখানোর চেষ্টা আমেরিকার। দেশটির কর্মকর্তাদের দাবি, ইরান যুদ্ধবিরতির জন্য ভিক্ষা চেয়েছিল। তারপরই রাজি হয়েছিল তারা।
যুদ্ধবিরতির কয়েক ঘণ্টা পর আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগনে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন ডনাল্ড ট্রাম্পের যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ। এই দাবির পাল্টা হিসেবে ইরানের পক্ষ থেকে এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি।
প্রায় পাঁচ সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এই চুক্তিটি হয়েছে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায়। গত কয়েক দিনে দেশটি সক্রিয়ভাবে উত্তেজনা কমাতে এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও বৃহত্তর সমঝোতা করতে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছে।
উভয় পক্ষের সব শর্ত এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে এখন পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে জানা গেছে যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেয়াই এই চুক্তির প্রধান শর্ত। যুদ্ধবিরতির পর উভয় পক্ষই নিজেদেরকে ‘বিজয়ী’ দাবি করেছে।
যুদ্ধবিরতির পরপরই পেন্টাগনে আজ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন যুদ্ধমন্ত্রী পিট হেগসেথ এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।
সম্মেলনে পিট হেগসেথ বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে আমেরিকা একতরফাভাবে জিতেছে। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমেরিকা একাধিক বড় বড় হামলা চালিয়েছে ইরানে। দেশটির অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাদের সামরিক ক্ষমতাও দুর্বল হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি-তে আমেরিকা নির্ণায়ক জয় পেয়েছে। ইরান এই যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করেছিল।’
ইরানে কতটা মারাত্মক হামলা চালানো হয়েছে তারও খতিয়ান দেন পিট হেগসেথ। তিনি জানান, তাদের সেনারা এক রাতেই ইরানে ৮০০টি হামলা চালায়। যার জেরে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ে। একের পর এক কারখানা মাটিতে মিশে যায়।
হেগসেথের আরও দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি আহত হয়েছেন। তবে এর বেশি তথ্য তিনি দেননি।
হেগসেথ আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া নতুন চুক্তির ফলে তেহরান ‘কখনোই, কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইরানের নতুন সরকার বুঝেছে যে একটি চুক্তি করা তাদের জন্য অনেক ভালো, কারণ অন্যথায় তাদের জন্য যে পরিণতি অপেক্ষা করছিল তা আরও খারাপ হতো।’
‘ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিটি লক্ষ্যই অর্জিত হয়েছে’
পিট হেগসেথ আরও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ অভিযানে ইরানের বিরুদ্ধে ‘প্রতিটি লক্ষ্যই অর্জিত হয়েছে।’ তার দাবি, ৪০ দিনেরও কম সময়ে এবং মাত্র ১০ শতাংশ মার্কিন সামরিক শক্তি ব্যবহার করেই তারা ‘বিশ্বের অন্যতম বড় সামরিক শক্তি’কে ভেঙে ফেলেছে।
তিনি আরও বলেন, ইরান নিজেদের রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং পুরো অভিযান ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী, সময়মতো’ সম্পন্ন হয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী দাবি করেন, ‘ইরানের নৌবাহিনী সমুদ্রের তলায় চলে গেছে… তাদের আর কোনো কার্যকর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই… তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে।’
তিনি যোগ করেন, ‘আমরা ইরানের প্রতিরক্ষা-শিল্প ভিত্তি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করেছি, যা ছিল আমাদের মিশনের একটি প্রধান লক্ষ্য। এখন তারা আর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারবে না।’

