Collected from: tsports.com
বিশ্বকাপের ট্রফি ধরে রাখার অভিযানে দুর্দান্ত সূচনার পর এবার দ্বিতীয় ‘পরীক্ষায়’ চোখ আর্জেন্টিনার। আলজেরিয়ার বিপক্ষে লিওনেল মেসির সেই জাদুকরি হ্যাটট্রিক আর সব উন্মাদনা আপতত অতীত। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে গ্রুপপর্বে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচের জন্য একাদশ নির্ধারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়। ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালের পর থেকে কোচ লিওনেল স্কালোনি কখনোই টানা দুই ম্যাচে একই একাদশ মাঠে নামাননি। আগামী সোমবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও মেসিদের কোচ এই ঐতিহ্য ভাঙছেন না সেটা বলাই যায়।
আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলের বড় জয় পেলেও আর্জেন্টিনা কোচিং স্টাফের পা মাটিতেই থাকছে। ভুলত্রুটি শুধরে নিখুঁত হওয়ার মিশন এখন ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের। তারা খুব ভালো করেই জানে, আফ্রিকান দলটির বিপক্ষে ম্যাচের কিছু মুহূর্তে আলবিসেলেস্তেরা বেশ ভুগেছে। তাই ভুলের পরিমাণ একদম শূন্যে নামিয়ে আনতে চান স্কালোনি। প্রতিদিন তো আর লিওনেল মেসি তাঁর ‘জাদুর কাঠি’ দিয়ে ম্যাচে ৩টি করে গোল এনে দেবেন না!
আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল রক্ষণভাগের সময় নিচে নেমে আসা এবং ডিফেন্ডার ও মিডফিল্ডারদের মাঝখানের ফাঁকা জায়গাগুলো। এই সমস্যা সমাধানে রক্ষণে ফিরছেন মলিনা। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম ‘ওলে’ জানিয়েছে, আর্জেন্টিনার ১১ জনের নিজেদের মধ্যকার অনুশীলনে স্কালোনি কেবল কৌশলগত পরিবর্তনই করেননি, বরং খেলোয়াড়ও অদলবদল করেছেন। খুব বেশি পরিবর্তন না হলেও, অন্তত দুটি পরিবর্তন নিশ্চিত। এর মধ্যে একটি প্রায় চূড়ান্ত, নাহুয়েল মলিনা শুরুর একাদশে ফিরছেন। তিনি স্থলাভিষিক্ত হবেন গনজালো মন্টিয়েলের, বাঁ পায়ে সামান্য পেশির চোট থাকায় বর্তমানে একটি বিশেষ ট্রেইনিং প্রোগ্রামে রাখা হয়েছে তাকে।
রক্ষণভাগের বাকিরা অপরিবর্তিত থাকছেন; লেফট-ব্যাকে ফাকুন্দো মেদিনাই খেলবেন, যদিও গতকাল অনুশীলনে স্কালোনি কিছুক্ষণের জন্য নিকোলাস ওতামেন্দিকে এই পজিশনে বাজিয়ে দেখেছিলেন।
স্কালোনির সবচেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ এখন মাঝমাঠ। প্রথম ম্যাচে ভালো করতে না পারলেও, বিশ্বকাপজয়ী অ্যাটাকিং মিডফিল্ড ত্রয়ীকে স্কালোনি হয়তো ভাঙবেন না। তবে কপাল পুড়তে পারে থিয়াগো আলমাদার। তাঁর জায়গায় কে আসবেন? কোচিং স্টাফদের মাথায় দুটি পরিকল্পনা ঘুরপাক খাচ্ছে। প্রথমটি হলো, একজন বল পজেশন ধরে রাখা মিডফিল্ডারকে (এক্সেকুয়েল পালাসিওস বা লিয়ান্দ্রো পারেদেস) খেলানো, যাতে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার কিছুটা ওপরে উঠে খেলার সুযোগ পান।
তবে দ্বিতীয় পরিকল্পনাটিই বেশি জোরালো সমর্থন পাচ্ছে; আক্রমণভাগের বাঁ প্রান্তে নিকোলাস গনজালেসকে (কিংবা জিউলিয়ানো সিমিওনেকে) খেলানো। কারণ, অস্ট্রিয়ার সবচেয়ে ভয়ঙ্কর আক্রমণগুলো হয় তাদের ডান প্রান্ত দিয়ে। সেখানে চোয়ালের চোট কাটিয়ে মাস্ক পরে খেলতে নামা স্টিফান পশ এবং বায়ার্ন মিউনিখের তরুণ তুর্কি কনরাড লাইমার জুটি বেঁধে আর্জেন্টিনার রক্ষণে কাঁপন ধরাতে পারেন।
রক্ষন আর মাঝমাঠের পাশাপাশি স্কালোনির জন্য আরেকটি বড় ভাবনার জায়গা হলো ফরোয়ার্ড পজিশন। হুলিয়ান আলভারেজ তাঁর সেরা ছন্দে না ফেরা পর্যন্ত এই ধোঁয়াশা কাটছে না। তবে বর্তমান পারফরম্যান্সের বিচারে এই পজিশনের লড়াইয়ে লাউতারো মার্তিনেজ কিছুটা এগিয়ে আছেন। অবশ্য এটা পরিষ্কার যে, স্কালোনি আলভারেজকেও পর্যাপ্ত খেলার সুযোগ দেবেন; কারণ সামনে যে কঠিন চ্যালেঞ্জ আসছে, তার জন্য আলভারেজকে পুরোপুরি প্রস্তুত রাখতে চান তিনি।
ভিন্ন ভিন্ন একাদশ এবং ফর্মেশন নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলেও কোচ খুব ভালো করেই জানেন, অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আরেকটি ইতিবাচক ফল তৃতীয় ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনাকে বিশাল সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে দেবে। সমীকরণটা খুবই সহজ: আর্জেন্টিনা যদি অস্ট্রিয়াকে হারায় এবং ওদিকে জর্ডান যদি আলজেরিয়াকে হারাতে না পারে, তবে গ্রুপ পর্বের এক ম্যাচ বাকি থাকতেই ‘জে’ গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে ফেলবে আলবিসেলেস্তেরা।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার সম্ভাব্য একাদশ:
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ(গোলকিপার), নাহুয়েল মলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ফাকুন্দো মেদিনা, রদ্রিগো ডি পল, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ, লিওনেল মেসি, লাউতারো মার্তিনেজ এবং থিয়াগো আলমাদা অথবা নিকোলাস গনজালেস।

