Collected from: tsports.com
২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের দেখা হয়তো টুর্নামেন্টের একদম শেষভাগেরই আগে হওয়া সম্ভব নয়, তবে এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী সবসময়ই একে অপরের ওপর কড়া নজর রাখে। সম্প্রতি ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার খেলার ধরণ নিয়ে খানিকটা ‘কটাক্ষের’ সুরে কথা বলেন। আলবিসেলেস্তে কোচ তার জবাব দিলেন, তখন বিষয়টি আরও একবার পরিষ্কার হয়ে গেল।
তবে কেউ যদি ভেবে থাকেন স্কালোনি এখানে আনচেলত্তি বা ব্রাজিলের বিপক্ষে কোনো বিস্ফোরক বা কড়া মন্তব্য করবেন, তাহলে তারা আসলে আর্জেন্টিনার এই ঠান্ডা মাথার কোচকে এখনো চেনেননি। বরাবরের মতোই, নিজের স্বভাবসুলভ শান্ত ও সংযত ভঙ্গিতে যেকোনো ধরনের বিতর্কিত পরিস্থিতিকে এক তুড়িতে উড়িয়ে দিলেন তিনি।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তির মন্তব্য প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘(আনচেলত্তি) কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা আমি বুঝতে পেরেছি। তিনি ইতিবাচকভাবেই কথাটি বলেছেন। নিশ্চিতভাবেই তিনি খারাপ কিছু বলেননি। আসলে সমস্যা হলো, তিনি যখন কথা বলেন তখন স্প্যানিশ, ইতালিয়ান আর পর্তুগিজ ভাষার একটা মিশ্রণ তৈরি হয়। তিনি যদি নিজের মাতৃভাষায় কথা বলতেন, তাহলে হয়তো আমরা সবাই তার কথা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারতাম। আমি তার মন্তব্যটিকে সমালোচনা নয়, বরং একটা প্রশংসা হিসেবেই দেখছি এবং এই ব্যাপারে আমি একবুক নিশ্চিত।’
আনচেলত্তি ঠিক কী বলেছিলেন?
বিশ্বকাপ এবং বর্তমান ফুটবল পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আর্জেন্টিনার খেলার ধরণ নিয়ে একটি কড়া বার্তা দিয়েছিলেন আনচেলত্তি। আনচেলত্তি মূলত বলেছিলেন যে—আলবিসেলেস্তেদের খেলার স্টাইলে তীব্রতা বা ‘ইনটেনসিটি’র ঘাটতি রয়েছে।
অবশ্য এমন মন্তব্যের পরও আনচেলত্তি আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবেই রেখেছেন, যদিও তার কথা লিওনেল মেসি বা অন্য তারকাদের একক প্রভাবকে কিছুটা খাটো করে দেখিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অভিজ্ঞ এই ইতালিয়ান কোচ স্প্যানিশ ও পর্তুগিজ ভাষার এক অদ্ভুত মিশ্রণে বলেন, ‘আমি এমন অনেক দল দেখেছি যারা ফেভারিট না হয়েও দুর্দান্ত ফুটবল খেলছে। আমার বিশ্বাস, এবারের বিশ্বকাপটি হবে ভীষণ হাই-ইনটেনসিটির (তীব্র গতির)। আর্জেন্টিনা যদিও খুব বেশি হাই-ইনটেনসিটির ফুটবল খেলে না, তবে তারা ম্যাচ খুব ভালো নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। আমার মনে হয়, কোনো একক তারকা এবারের বিশ্বকাপ নির্ধারণ করে দেবে না। এটাই আমার ব্যক্তিগত মত।’
আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সামনে যে সমীকরণ
গ্রুপ ‘জে’-তে নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা। অস্ট্রিয়ার ঝুলিতেও রয়েছে ৩ পয়েন্ট। তাই আনচেলত্তি বা ব্রাজিল কী বলল—তা নিয়ে মাথা ঘামানোর মতো একদমই সময় নেই স্কালোনি ও তার দলের। নিজেদের ম্যাচ নিয়েই তাদের ভাবনার শেষ নেই। কারণ অস্ট্রিয়াকে হারাতে পারলে এবং অন্য ম্যাচে আলজেরিয়া যদি জর্ডানকে হারায় কিংবা ম্যাচটি ড্র হয়, তবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই পরের রাউন্ডে যাবে আর্জেন্টিনা।
অন্যদিকে ব্রাজিলও কিছুটা স্বস্তিতে রয়েছে। হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের বড় জয় পাওয়ায় বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছে তারা। আগামী ২৫ জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে গ্রুপ ‘সি’-র মিশন শেষ করবে সেলেসাওরা। শেষ বত্রিশের টিকিট কাটতে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে কেবল একটি ড্র-ই যথেষ্ট ব্রাজিলের জন্য, তবে সেক্ষেত্রে রানার্সআপ হয়েও যেতে হতে পারে। আর যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে হয়, তবে ব্রাজিলকে অবশ্যই স্কটল্যান্ডকে হারাতে হবে এবং একই সঙ্গে প্রার্থনা করতে হবে মরক্কো যেন হাইতিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে গোল ব্যবধানে সেলেসাওদের টপকে না যায়।

