Collected from: somoynews.tv
মোড়কজাতকরণ আইনের তোয়াক্কা না করেই দেশে তৈরি ফেসওয়াশ বাজারজাত করছে রিমার্ক এইচবিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। একে ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা হিসেবে দেখছে ক্যাব। আর আইন অমান্যকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির কথা বলছে, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। বিএসটিআই বলছে, ধীরে ধীরে কঠোর হচ্ছেন তারাও।
সুসজ্জিত মোড়কে ভোক্তার হাতে যেসব পণ্য আসছে; তা কতোটা মানসম্পন্ন? এমন সন্দেহ যেমন রয়েছে ক্রেতার, তেমনি তা কতোটা আইন মেনে আসছে বাজারে; রয়েছে সেই প্রশ্নও। আইন মানছে নাকি আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো? তা বোঝার আগে দেখে নেয়া যাক মোড়কজাতকরণ বিধিমালা-২০২১ এর ৫ ধারা। যেখানে পরিষ্কারভাবে সব তথ্য লেখা ও অক্ষরের আকৃতির ক্ষেত্রে বাংলাকে প্রাধান্য দেয়ার বাধ্যবাধকতা রাখা রয়েছে।
বিভিন্ন পণ্যের মধ্যে ফেসওয়াশকে স্যাম্পল হিসেবে নিয়ে বাজার ঘুরে দেখে সময় সংবাদ। দেখা যায়, অনেক প্রতিষ্ঠানই ক্রেতা আকর্ষণে যেভাবে ইংরেজিকে প্রাধান্য দিচ্ছে ঠিক সেভাবে গুরুত্ব নেই বাংলায়। যাকে আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে ভোক্তার অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ক্যাব। অভিযোগ আছে আইনের এ লঙ্ঘনে নষ্ট হচ্ছে পণ্যের বিক্রয় প্রতিযোগিতা।
বাংলাদেশ কসমেটিক অ্যান্ড টয়লেট্রিজ ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. জহিরুল হক ভূঁইয়া বলেন, বিএসটিআই অভিযানের মাধ্যমে পণ্যগুলো বাজার থেকে উঠিয়ে নিতে বাধ্য করে কোম্পানিগুলোকে।
ক্যাব সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, দুই ধরনের আইন আছে। একটা হলো লাইসেন্স বাতিল, এটা তো বিএসটিআইয়ের আইনের আওতায়। কিন্তু তিনি যে পণ্য নিয়ে প্রতারণা করছেন, সেই প্রতারণার জন্য জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইনেও ব্যবস্থা নেয়া যায়।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর বলছে, বাজারজাতকরণে আইনের ক্ষেত্রে কঠোর হচ্ছে সংস্থাটি।
জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপপরিচালক আতিয়া সুলতানা বলেন, মোড়কজাতকরণ আইনের যদি কেউ তোয়াক্কা না করে বা কোনো প্রতিষ্ঠান, তাহলে এ ধরনের পণ্য তুলে নেয়ার অধিকার আছে এবং ধ্বংস করারও।
বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক মো. আবুদুল্লাহ আল মামুন বলেন, পণ্যের মোড়কে ছোট করে বাংলায় লেখা, সেটা আমাদের নজরে এসেছে। তারা যখন নবায়নের ক্ষেত্রে এসেছে, তাদেরকে স্মরণ করে দেয়া হয়েছে বিষয়টি নিয়ে।
অন্যদিকে তৎপর হচ্ছে মোড়ক সনদ নিয়ন্ত্রণকারী সর্বোচ্চ সংস্থা বিএসটিআই। একই সাথে বিএসটিআই বলছে, আইনি মারপেচে বিদেশি বাজার ধরতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের যেন কোনো সমস্যা না হয় তার দিকেও নজর আছে সংস্থাটির।

