Collected from: somoynews.tv
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সৈকতে আবারও ভেসে এলো ৩৫ কেজি ওজনের অলিভ রিডলি প্রজাতির ১ টি জীবিত কচ্ছপ।
শনিবার (১৬ মে) সকাল ১১ টার দিকে কুয়াকাটা সৈকতের পূর্ব পাশে ডিসি পার্ক সংলগ্ন সৈকতে কচ্ছপটি দেখতে পায়, সৈকতের ফটোগ্রাফার মোহাম্মদ সাইফুল। পরে বন বিভাগ এবং উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরার) সমন্বয়ে কচ্ছপটিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বারবার এভাবে সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু অত্যন্ত উদ্বেগজনক মন্তব্য করে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের (উপরা) যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন বলেন, উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষায় এখনই কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
ডলফিন ও কচ্ছপ রক্ষা কমিটির নথি বলছে, চলতি মাসেই ভেসে এসেছে ৭ টি মৃত কচ্ছপ । এর মধ্যে একটি সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ আর বাকি ৫টি অলিভ রিডলি প্রজাতির। প্রতিটির শরীরে ছিল ক্ষতচিহ্ন।কুয়াকাটা এছাড়াও এ বছরে ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ৭টি মৃত কচ্ছপ ভেসে এসেছে। ২০২০ সালে ৫টি । ২০২২ সালে ৯ টি মৃত কচ্ছপ কুয়াকাটা ও তার আশপাশের সৈকতের বেলাভূমে ভেসে এসেছে। এভাবে ২০১৮ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ৮ বছরে জলপাইরঙা বা অলিভ রিডলে, সবুজ সামুদ্রিক, হকসবিল, লগারহেড, চামট বা লেদারব্যাক প্রজাতির অন্তত ৩০টি মৃত কচ্ছপ কুয়াকাটায় ভেসে এসেছে। এর মধ্যে একটি জীবিত কচ্ছপও আন্ধারমানিক সংলগ্ন নদীতে ভেসে এসেছিল। তবে বিভিন্ন সরকারি দফতরে যোগাযোগ করেও ডলফিনের মৃত্যুর কারন বের করা যায়নি। তাই বেসরকারি বিভিন্ন সংগঠনের পাশাপাশি সরকারকেও মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে এগিয়ে আসার দাবি জানান।
তবে স্থানীয় জেলেরা বলছেন, অবৈধ ট্রলিংয়ে রাখা টোন জালের কারণে ডলফিনগুলো মারা যাচ্ছে। তাই আহত এসকল কচ্ছপ, ডলফিন, তিমি সামুদ্রিক প্রাণীগুলোকে চিকিৎসার পাশাপাশি মৃত অবস্থায় ভেসে আসা প্রাণীগুলো নিয়ে গবেষণা করার দাবি জানান তারা।
পরিবেশকর্মী কেএম বাচ্চু বলেন, ‘সরকারকে আহ্বান করেও কচ্ছপ ও ডলফিনের মৃত্যুর কারণগুলো উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। তাই জেলেদের সচেতনতা বেশি দরকার। পরিবেশ রক্ষার জন্য মৃত এসকল সামুদ্রিক প্রাণিগুলোকে মাটি চাপা দেওয়া হচ্ছে। তবে যদি মিউজিয়াম সিস্টেম করে রাখা হয়, তাহলে পর্যটকরা ঘুরতে এসে এগুলো দেখতে পারবে।’
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স ও মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ফিশারিজ বিভাগের অধ্যাপক রাজীব সরকার বলেন, বঙ্গোপসাগরে জেলেদের ব্যবহার করা অবৈধ ট্রলিং জালে (ধ্বংসাত্মক বেহুন্দি প্রকৃতির জাল) সামুদ্রিক কচ্ছপ, ডলফিনসহ অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী আটকা পড়ে মারা যাচ্ছে। তাই জেলেদের সচেতনতার পাশাপাশি বন ও মৎস্য অধিদপ্তর সমুদ্রে কচ্ছপের পোনা অবমুক্ত করতে পারলে কচ্ছপকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব পাশাপাশি একটি সুস্থ ও সুন্দর সমুদ্র পাওয়া সম্ভব।
বন বিভাগের কুয়াকাটা ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবেল হোসেন বলেন, বিভিন্ন সময় কুয়াকাটার উপকূলে ভেসে আাসা কচ্ছপ, ডলফিন,তিমি, শাপলা পাতা প্রাণীগুলোর মৃত জীববৈচিত্র্যর জন্য মারাত্মক হুমকি। তাই বেসরকারি ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামুদ্রিক এসব প্রাণী মৃতের কারণ অনুসন্ধানে এগিয়ে আসতে হবে।পাশাপাশি ভেসে আসা জীবিত কচ্ছপির চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।কিছুটা সুস্থ হলেই সমুদ্রে অবমুক্ত করা হবে।’
সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, উপকূলীয় সমুদ্রের পানিতে শনাক্ত হয়েছে ১৭৯ ধরনের মাইক্রোপ্লাস্টিক। গভীর সমুদ্রের তুলনায় উপকূলীয় কচ্ছপের শরীরে এ মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি বেশি, যা তাদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ হতে পারে।
গত আট বছরে ৩১টি কচ্ছপের মৃত্যু হলেও হয়নি কোনো বৈজ্ঞানিক ময়নাতদন্ত। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, জরুরি ভিত্তিতে কচ্ছপের নিরাপদ অভয়ারণ্য গড়ে না তুললে এ সামুদ্রিক প্রাণীর অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়বে।

